শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

থার্ড টার্মিনাল চালুতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইবে বেবিচক

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু করা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বেবিচকের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। এ দিকে চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সদস্যের সম্ভাব্য বদলির গুঞ্জনে সংস্থাটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বেবিচক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেন। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পাওনা এক হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি আটকে আছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বেবিচক কর্তৃপক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে আলোচনার জন্য ই-মেইল পাঠায়। তবে কনসোর্টিয়াম পাল্টা মেইলে সেই আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

এতে ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সালিস বোর্ডের পূর্ববর্তী রায়ের ওপর আস্থা রেখে তারা পাওনা অর্থ পরিশোধের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ টার্মিনাল চালু করতে হলে বেবিচককে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

জানা গেছে, এ অর্থ পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাইবে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী বেবিচক পরিদর্শনে এসে থার্ড টার্মিনাল চালু নিয়ে কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করে। নির্মাণকাজ চলাকালে তারা ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’ নামে কাজ পরিচালনা করে। তবে বেবিচকের কয়েকজন কর্মকর্তার অদূরদর্শিতার কারণে কনসোর্টিয়ামের সাথে আর্থিক দেনাপাওনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সালিস বোর্ডে গড়ায় এবং রায় বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে যায়। ফলে তাদের পাওনা এক হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করা এখন প্রায় অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তার কারণে এই মেগা প্রকল্পটি অযথা বিতর্কিত হয়ে পড়ে। কাজ প্রায় শেষ হলেও নানা জটিলতায় টার্মিনালটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করার পর আবার তা স্থগিত করতে হওয়ায় দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও আলোচনায় বসতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনাগ্রহ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। বেবিচকের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, নতুন করে চিঠি চালাচালি এই প্রক্রিয়াকে আরো দীর্ঘায়িত করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সংস্থাটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সম্ভাব্য বদলির গুঞ্জনে বেবিচকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি চেয়ারম্যানের দফতরের সামনে এক ঠিকাদারের সাথে বাগি¦তণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মেম্বার (অপারেশনস) মেহবুব খান। অভিযোগ রয়েছে, একটি ফাইল দীর্ঘ দিন ধরে আটকে থাকায় ওই ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কর্মকর্তারা জানান, শীর্ষ পর্যায়ের সম্ভাব্য বদলি নিয়ে পুরো সংস্থাজুড়ে আলোচনা চলছে। ফলে অনেকেই কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বেবিচকের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।