তাহিরপুরের হাওরে সড়ক সঙ্কট ধান পরিবহনে দুর্ভোগ

Printed Edition
কাঁচা রাস্তা দিয়ে ঠেলাগাড়িতে খলায় ধান শুকাতে নেয়া হচ্ছে : নয়া দিগন্ত
কাঁচা রাস্তা দিয়ে ঠেলাগাড়িতে খলায় ধান শুকাতে নেয়া হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে পাকা সড়কের অভাবে বোরো ধান ঘরে তুলতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো কৃষক। ধান রোপণ থেকে শুরু করে কাটা ও খলায় (ধান শুকানোর স্থান) পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই বাড়তি কষ্ট ও ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাওরের অধিকাংশ সড়কই মাটির হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে ট্রলি, অটোরিকশা, পিকআপ কিংবা ঠেলাগাড়ি, কোনো যানবাহনই স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। ধান পরিবহনের সময় কাদামাটির গর্তে যানবাহন আটকে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ট্রলি থেকে ধান নামিয়ে আলাদা করে উঠিয়ে আবার পরিবহন করতে হচ্ছে। হাওরের ভাঙাচোরা পথে ধান আনতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। এতে পা ভাঙাসহ গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের।

শনির হাওরের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, হাওরের গভীর থেকে ধান খলায় আনতে পাকা সড়ক খুব প্রয়োজন। মাটির রাস্তায় যানবাহন চলতে পারে না। প্রতি বস্তা ধান আনতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় বোঝা।

মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ধান উৎপাদন করে লাভের আশা করেছিলাম, কিন্তু পরিবহন খরচ এত বেড়েছে যে লাভের বদলে এখন খরচই তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শ্রমিক সঙ্কটও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার দাবি জানানো হলেও এখনো টেকসই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে লাভের অংশ কমে যাচ্ছে, যা হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের টিআর-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় কিছু মেরামত করা হয়েছে। তবে মাটির সড়ক হওয়ায় বৃষ্টি হলে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। পাকা সড়ক নির্মাণ হলে কৃষকরা সহজেই ধান পরিবহন করতে পারতেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, এবার হাওরে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু সড়ক অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। সড়কগুলো টেকসই ও পাকা করা হলে কৃষকরা সহজে কম খরচে ধান ঘরে তুলতে পারতেন। কৃষকদের দাবি, দ্রুত হাওরাঞ্চলের সড়কগুলো পাকা করে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা হোক, যাতে উৎপাদিত ধান সহজে ও কম খরচে ঘরে তোলা সম্ভব হয়।