পশ্চিমবঙ্গের ৩৬১ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মীর চাকরি স্থায়ীকরণে সুপ্রিম কোর্টের না

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলছে, রাজ্যের অনুমোদন ছাড়া মাদরাসায় নিয়োগ দেয়া যাবে না। একই সাথে সুপ্রিম কোর্ট মাদরাসা কর্মচারীদের একগুচ্ছ দাবি খারিজ করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইনটিকে প্রথমে একজন একক বিচারপতি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আইনটি বহাল রাখলেও ভারতের এ রাজ্যের বিভিন্ন মাদরাসায় নিয়োগ দাবি করা ৩৬১ জনেরও বেশি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের দাবি গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন।

ভারতে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদনকারীরা দাবি করেছিলেন যে, তাদের নিয়মিতভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং সেই কারণে তারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অনুদান প্রকল্প থেকে বেতন পাওয়ার অধিকারী। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এজি মসিহকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই আদেশ জারি করে জানায়, রিট আবেদনগুলোর কোনো সারবত্তা নেই এবং তাই সেগুলো খারিজ করা হলো। আমাদের দেয়া আদেশ অনুসারে, ৩৫০ জনেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্যে থেকে ১৩ জনের বিবরণ যাচাই করে আমাদের সামনে পেশ করা হয়েছিল। আমরা এই ভিত্তিতে অগ্রসর হয়েছিলাম, যদি এই ১৩ জনের মধ্যে একজন আমাদের রায় বহাল রাখতে রাজি করাতে পারেন, তবে আমরা অন্য মামলার দাবিগুলো খতিয়ে দেখব। দুর্ভাগ্যবশত, এই ১৩ জনের কেউই আমাদের রাজি করাতে পারেননি। সব রিট পিটিশনই ভিত্তিহীন এবং সেই কারণে খারিজ করা হলো।

একই সাথে সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের মাদরাসা কমিটিগুলো এখন থেকে নিজেদের প্রয়োজনমতো শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ করতে পারবে না। রাজ্য সরকার এবং সরকারি মাদরাসা পরিচালন পর্ষদের অনুমতি নিতে হবে নিয়োগের ক্ষেত্রে।

২০০৮ সালের পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইনটিকে হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার দাবি করে ৩৬১ জন আবেদনকারী ৪০টিরও বেশি রিট পিটিশন দায়ের করেন। মহম্মদ রফিক বনাম ম্যানেজিং কমিটি, কাঁথি রহমানিয়া হাই মাদরাসা (২০২০) মামলায়, সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮ সালের আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে। ফলস্বরূপ, সুপ্রিম কোর্টে একটি আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়, যা ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩-এ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পরে নিযুক্ত বলে দাবি করা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত মামলাগুলো খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে, যার প্রক্রিয়াটিকে আবেদনকারীরা একটি অনুচ্ছেদ ৩২ আবেদনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করে। বিচারপতি দত্তের একটি বেঞ্চ বিষয়টি শুনে আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীদের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের ১০টি সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা চিহ্নিত করতে বলে এবং তাদের উত্তর দেয়ার জন্য কয়েকটি প্রশ্ন তৈরি করে। প্রশ্নগুলো হচ্ছে, আবেদনকারীরা দাবি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোতে (নামগুলো প্রকাশ করা যেতে পারে) যে তারিখে নিযুক্ত হয়েছিলেন, সেই তারিখে উক্ত মাদরাসাগুলো কি পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত বৈধ স্বীকৃতি ভোগ করত? আবেদনকারীরা যে সব সংশ্লিষ্ট মাদরাসাতে নিযুক্ত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন, সেগুলোর পরিচালনা কমিটিগুলো কি এই অর্থে বৈধ পরিচালনা কমিটি ছিল যে, সেগুলো পরিচালনা বিধি অনুসারে যথাযথভাবে গঠিত হয়েছিল এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিল?

আবেদনকারীরা রাজ্যের অনুদানপ্রাপ্ত স্কিমের (গ্রান্ট-ইন-এইড) আওতায় বেতনের দাবি জানাচ্ছিলেন। শীর্ষ আদালত জানায়, আবেদনকারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল এবং তাদের নিয়োগের সময় মাদরাসাগুলোর বৈধ অনুমোদন বা সঠিক পরিচালন কমিটি (ম্যানেজিং কমিটি) ছিল না। আদালত আরো উল্লেখ করে যে, পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন অ্যাক্ট, ২০০৮-এর পর যেসব নিয়োগ হয়েছিল, তা কোনো নিয়মনীতি মেনে করা হয়নি।