উত্তম প্রতিবেশী আল্লাহর সেরা নিয়ামত

Printed Edition

সাকী মাহবুব

‘উত্তম প্রতিবেশী আল্লাহর সেরা নিয়ামত’। একজন ভালো প্রতিবেশী শুধু জীবনকে সহজ করে না; বরং একটি সুস্থ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে একজন ভালো প্রতিবেশীর গুরুত্ব এবং অধিকার অত্যন্ত মূল্যবান। নিরাপদে বসবাসের জন্য উত্তম প্রতিবেশী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি ভালো প্রতিবেশী পায় সে সত্যিই সৌভাগ্যবান। রাসূল সা: বলেছেন, ‘একজন মুসলিমের জন্য প্রশস্ত বাসভবন, সৎ প্রতিবেশী ও রুচিসম্মত বাহন সৌভাগ্যস্বরূপ’ (বুখারি)।

ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীর ক্ষতি করে, সে প্রকৃত মুসলমান নয়’ (বুখারি ও মুসলিম)। এই শিক্ষাটি প্রতিফলিত করে যে একজন মুসলিমের দায়িত্ব কেবল তার নিজের জন্য নয়; বরং তার চারপাশের মানুষ, বিশেষ করে প্রতিবেশীদের প্রতি।

উত্তম প্রতিবেশী একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের প্রধান উপাদান। যদি প্রতিবেশীদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকে, তাহলে সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। ভালো প্রতিবেশীরা একে অপরের সহায়ক এবং বিপদের সময় পাশে থাকে, যা সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে। রাসূল সা: মন্দ প্রতিবেশী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। হাদিস সম্রাট আবু হুরায়রা রা: বর্ণনা করেন, রাসূল সা: বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট স্থায়ী বাসস্থানের দুষ্ট প্রতিবেশী হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কেননা মরুভূমির প্রতিবেশী পরিবর্তন হয়ে থাকে’ (ইবনে হিব্বান, আসসহিহ)। ‘এর পরও যদি কারো প্রতিবেশী মন্দ হয়, মন্দের জবাব যেন সে মন্দ দিয়ে না দেয়; বরং আল্লাহর নির্দেশ হলোÑ ভালো-মন্দ সমান হতে পারে না। উত্তম পন্থায় প্রতিকার করুন। তখন দেখবেন, আপনার সাথে যার শত্রুতা আছে, সেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে’ (সূরা আল ফুসসিলাত-৩৪)। একজন উত্তম প্রতিবেশী দুঃখ বা বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে, যখন একজন প্রতিবেশী বিপদে থাকে, তখন তাকে সাহায্য করা একজন মুসলিমের দায়িত্ব।

মহানবী সা: নিজে ছিলেন উত্তম প্রতিবেশীর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি সবসময় তার প্রতিবেশীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তাদের বিপদে সহায়ক হতেন। তিনি বারবার তার অনুসারীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা প্রতিবেশীদের সাথে ভালো আচরণ করে।

একজন উত্তম প্রতিবেশী অন্যদের প্রতি দায়িত্বশীল এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকে। মহানবী সা: বলেছেন, ‘তোমরা কেউই প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তোমার প্রতিবেশী তোমার থেকে নিরাপদ বোধ করে’ (মুসলিম)। এই নির্দেশনা প্রমাণ করে, উত্তম প্রতিবেশী হওয়া মানে অন্যদের নিরাপত্তা এবং সুখ নিশ্চিত করা। রাসূল সা: আরো বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে প্রতিবেশীদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার নিজের প্রতিবেশীর জন্য উত্তম’ (তিরমিজি)।

উত্তম প্রতিবেশী সত্যিই আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নিয়ামত বা আশীর্বাদ। এমন প্রতিবেশীর সাথে বসবাস করা জীবনকে সহজ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ করে তোলে। তাদের সাহায্য, সহানুভূতি ও বন্ধুত্ব জীবনকে আরো অর্থবহ করে তোলে, যা আল্লাহর দান হিসেবে দেখা হয়।

উত্তম প্রতিবেশী সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি একটি বড় নিয়ামত, যা আমাদের জীবনকে সুখময় ও শান্তিপূর্ণ করে তোলে। আমাদের উচিত ভালো প্রতিবেশী হওয়া এবং তাদের প্রতি সদয় এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা, যাতে আমরা সমাজে একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে পারি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।