বগুড়ায় প্রতারণা-অর্থ আত্মসাৎ মামলায় আ’লীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে

Printed Edition

বগুড়া অফিস

বগুড়া জেলা জজকোর্টের সদর আমলি আদালত অসংখ্য প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার পলাতক আসামি আমেনা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাহিদা আক্তারকে কারাগারে পাঠিয়েছে। গত সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন চাইলে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদকেও প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

আদালত সূত্র জানায়, আমেনা ফাউন্ডেশনসহ সহযোগী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে অনুদান নিয়ে তা আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন ক্লাব, এনজিও ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান দেয়ার নামে অর্থ সংগ্রহ করার অভিযোগে আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এ ছাড়া ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট বগুড়া সদর থানার পুলিশ প্রতারণার একটি মামলায় আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। ওই মামলায় নাহিদা আক্তারের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, বগুড়া জজ আদালতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত বর্তমানে আটটি মামলা চলমান রয়েছে। সব মামলায় দু’জনের নামেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

মামলার বেশিরভাগ অভিযোগই চেক স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে তাদের বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আদালত বাদি মো: আসাদুর রহমানকে ২০ লাখ ও মোছা: সাবিনা ইয়াসমিনকে পাঁচ লাখ টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে। জয়পুরহাট জেলা জজ আদালতেও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে তিন-চারটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলা এবং একটি মাদক চোরাচালান মামলা চলছে। পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সরকারি দফতর থেকে বিপুল পরিমাণ অনুদান এনে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দীর্ঘ দিন ধরে তদন্ত চালিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কার্যকর তদন্ত বা বিচার হয়নি। প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আবুল কালাম আজাদ মাত্র কয়েক বছরে জিরো থেকে হিরো হয়ে ওঠেন।