দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে : ডা: শফিক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। নানা রাজনৈতিক উত্তাপ, সামাজিক অস্থিরতা ও দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মাঝে আমাদের জন্য জরুরি হলো ন্যায়বিচার, সত্য ও জনগণের অধিকারকে সবচেয়ে উঁচু আসনে প্রতিষ্ঠা করা।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। পোস্টে তিনি আরো বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি দেশ তখনই সত্যিকার অর্থে অগ্রসর হয়, যখন সেখানে বৈধতা, ন্যায়, স্বচ্ছতা ও জনগণের মতামত সর্বাধিক মর্যাদা পায়। ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে, নীতিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই আজ সময়ের দাবি।

তিনি উল্লেখ করেন, এই সঙ্কটময় সময়ে আমি আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আমাদের সংগ্রাম কারো বিরুদ্ধে নয়; আমাদের সংগ্রাম ন্যায়, অধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সব নাগরিক নিরাপদে মত প্রকাশ করতে পারে, যেখানে বিচার হবে নিরপেক্ষ এবং যেখানে পরিবর্তন আসবে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে।

জামায়াত আমির বলেন, আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি ধৈর্য, সতর্কতা ও ঐক্য বজায় রাখুন। আমাদের লক্ষ্য হোক শান্তি, ন্যায় ও জাতীয় পুনর্গঠন। আল্লাহতায়ালা আমাদের দেশকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করুন।

জামায়াত শিশুদের অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে : গোলাম পরওয়ার

ইউনিসেফ বাংলাদেশের আমন্ত্রণে তাদের ঢাকা অফিসে ‘বাংলাদেশে শিশুদের ভবিষ্যৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা ও করণীয়’ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন। এ প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং জামায়াত নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শিশির মনির। শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইউনিসেফের ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভায় ইউনিসেফের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত এর রিপ্রেজেনটেটিভ রানা ফাওয়ার্স।

আলোচনা সভায় ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশুদের সাম্প্রতিক অবস্থার ওপর গবেষণার কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় বলা হয়-বাংলাদেশে প্রকৃতপে মাত্র ১৫%-২০% প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান ডেলিভারি (অপারেশনের মাধ্যমে শিশুর জন্ম) প্রয়োজন হয়; কিন্তু বাস্তবে, হাসপাতালে/ক্লিনিকে ৭৫% মা সিজার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য সঙ্কট নয় বরং একটি বৃহৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া জানানো হয় যে, প্রায় ৩১% শিশু অষ্টম শ্রেণীতে পৌঁছানোর আগেই ঝরে পড়ে, যা একটি জাতির ভবিষ্যৎ বিকাশে বড় বাঁধা ও হুমকিস্বরূপ।

শিশুদের সঠিক পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে শিশুদের ভবিষ্যৎ, অধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুরাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি-সুস্থ, শিক্ষিত ও নিরাপদ শিশুরাই গড়ে তুলবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা শিশুদের অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সিজারিয়ান বার্থের (অপারেশনের মাধ্যমে শিশুর জন্ম) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কমানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।