প্রতিরোধের নতুন উপাখ্যান ‘প্যালেস্টাইন-৩৬’

সিনেমাটি মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ, ত্যাগ এবং টিকে থাকার লড়াইয়ের এক গভীর মহাকাব্য। পাঁচটি আন্তঃসংযুক্ত গল্পের মাধ্যমে এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কীভাবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের গ্রামগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

সাকিবুল হাসান
Printed Edition

জেদ্দা রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দর্শকদের প্রশংসা কুড়ানোর পর, প্রখ্যাত নির্মাতা অ্যানমেরি জাসিরের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘প্যালেস্টাইন-৩৬’ আগামী বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ১৯৩৬ সালের ঐতিহাসিক আরব বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমাটি এ বছর অস্কারের জন্য ফিলিস্তিনের অফিসিয়াল এন্ট্রি হিসেবে মনোনীত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অস্কারের অফিসিয়াল লংলিস্টেও জায়গা করে নিয়েছে।

সিনেমাটি মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ, ত্যাগ এবং টিকে থাকার লড়াইয়ের এক গভীর মহাকাব্য। পাঁচটি আন্তঃসংযুক্ত গল্পের মাধ্যমে এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কীভাবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের গ্রামগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। একদিকে ইউরোপে ইহুদিবিদ্বেষ থেকে বাঁচতে আসা বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর চাপ, অন্যদিকে ব্রিটিশদের ৩০ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ- এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে তৎকালীন অঞ্চলের যে টালমাটাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তাই এই সিনেমার মূল উপজীব্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সিনেমাটি ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে, যার প্রমাণ হিসেবে এটি টোকিও ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘সেরা চলচ্চিত্রের’ পুরস্কার জয় করেছে। নির্মাতা অ্যানমেরি জাসির আশা করেন, যুদ্ধের শিকার বা ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস আছে এমন দেশগুলোর মানুষ এই সিনেমার সাথে নিজেদের জীবনের সংযোগ খুঁজে পাবেন। তার মতে, এটি কেবল একটি সিনেমা নয়; বরং মুছে ফেলা ইতিহাসের একটি আয়না। সিনেমাটিতে রয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ কাস্টিং। অস্কারজয়ী জেরেমি আয়রন্স ও ‘গেম অব থ্রোনস’ তারকা লিয়াম কানিংহামের পাশাপাশি এতে অভিনয় করেছেন জাফর এল আবিদিন এবং জনপ্রিয় ফিলিস্তিনি অভিনেতা সালেহ বাকরি ও হিয়াম আব্বাসের মতো তারকারা। ডিসেম্বরে সিনেমাটির প্রিমিয়ারে জাসিরের ফিলিস্তিনি ডিজাইনার রিমা দাহবুরের তৈরি ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি’ নামক একটি প্রতীকী পোশাক পরে অংশ নিয়েছিলেন, যা ফিলিস্তিনি জনগণের ভূমি ও সংগ্রামের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।