অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
সপ্তাহের মোট পাঁচ কার্যদিবসের তিনটিতে সূচকের উন্নতির ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধনে যোগ হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ছয় লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে সপ্তাহ শুরু করা পুঁজিবাজারটির মূলধন সপ্তাহান্তে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে উপরোক্ত সময়ে বাজারটির মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা।
বেশ কিছুদিন ধারাবাহিক দরপতনের পর গত ১৬ নভেম্বর ইতিবাচক ধারায় ফিরে দেশের পুঁজিবাজার। ওই সময় তথা আগের সপ্তাহটির একই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও বাজারগুলো সূচকের উন্নতি ধরে রেখে পার করে। মোট পাঁচ কর্মদিবসের তিনটিতেই সূচকের উন্নতি ধরে রাখে ডিএসই। এ সময় ব্যাংকিংখাতের একটি বড় অংশের পাশাপাশি বীমা ও মূলধনসমৃদ্ধ টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানিগুলোও মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ছিল যা সূচকের বড় ধরনের উন্নতির পাশাপাশি বাজার মূলধন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্নমুখী গুজবে কিছুটা অস্থির অবস্থায় পার করে দেশের দুই পুঁজিবাজার। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক মার্জিন রুলসসহ অন্যান্য কিছু বিধিমালা তৈরি নিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়, যা এক পর্যায়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত মার্জিন রুলস কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করলে আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করে পুঁজিবাজার। তবে এর মধ্যেও বাজারে স্বাভাবিক সংশোধন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইক্সে গত সপ্তাহে ১৫৯ দশমিক ১৩ পয়েন্ট তথা ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ উন্নতি ঘটে। সপ্তাহের প্রথম দু’দিন সূচকের বড় উন্নতি ঘটলে পরবর্তী দু’দিন বাজারে স্বাভাবিক সংশোধন ঘটে। তবে সপ্তাহের শেষদিনে এসে ফের ঊর্ধ্বমুখী আচরণ করে বাজার। এভাবে চার হাজার ৮৬৯ দশমিক ০১ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার দিনশেষে পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ২৮ দশমিক ১৪ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসইর বিশেষায়িত দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৫৬ দশমিক ৩৯ তথা ৩ শতাংশ ও ৩৮ দশমিক ৫৬ তথা ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
সূচকের এ উন্নতি গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ১৫ কার্যদিবস পর ২৪ ও ২৫ নভেম্বর দু’দিনই বাজারটির লেনদেন ৬০০ কোটির ঘর অতিক্রম করে। এভাবে সপ্তাহটিতে ডিএসইর লেনদেন দাঁড়ায় দুই হাজার ৬২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৩২ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে বাজারটির মোট লেনদেন ছিল এক হাজার ৯৮৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। একই ভাবে এ সপ্তাহের বাজারটির গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৫২৫ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এ দিকে আধুনিকীকরণ এবং এর সামগ্রিক কার্যকারিতা দ্রুততর করার লক্ষ্যে দেশের দুই পুঁজিবাজার বা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ‘স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম’ (এসএসএস) অনলাইনে তথ্য প্রদান পদ্ধতি চালু করেছে। গত বুধবার থেকে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। এখন থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের সব করপোরেট ফাইল একটি একক, সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে দাখিল করতে পারবে, যা ম্যানুয়াল বা হার্ডকপি জমা দেয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে বিলুপ্ত করে তথ্য জোগান দেয়ার কার্যক্রমকে দ্রুততর করবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তাদের যাবতীয় তথ্য আলাদাভাবে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সশরীরে হার্ডকপি আকারে জমা দিতে হতো। এর পাশাপাশি বোর্ডসভা অনুষ্ঠানের ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রৈমাসিক, বার্ষিক এবং আর্থিক বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ আপডেটগুলো ইমেল বা ফ্যাক্সের মাধ্যমেও পাঠাতে হতো। এ জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া দূর করে এসএসএসের মূল লক্ষ্য হলো পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা, দ্রুততম সময়ে নির্ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়া এবং ডাটাসংক্রান্ত ঝুঁকি হ্রাস করা, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ও বিনিয়োগ
নতুন এ ডিজিটাল ব্যবস্থায়, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে এক্সচেঞ্জগুলোর পক্ষ থেকে একটি অনন্য ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দেয়া হবে। এ আইডি ব্যবহার করেই তারা সিস্টেমে লগইন করে প্রয়োজনীয সমস্ত নথি অনলাইনে জমা দিতে পারবে। যদি কোনো অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হয়, তবে এক্সচেঞ্জগুলো এ অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমেই কোম্পানির কাছে তা চাইবে।
প্রসঙ্গত, ডিএসই কর্র্তৃপক্ষ ২০২৪-এ এককভাবে শুধু মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের জন্য একটি স্মার্ট ডাটা অনলাইন সিস্টেম চালু করেছিল, তবে এখন সিএসই-ও এ অনলাইন সিস্টেমে যুক্ত হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আরো সমন্বিত হলো। আশা করা হচ্ছে এ নতুন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে যেমন সুবিধা হবে তেমনি বাজার কর্তৃপক্ষও সময়মতো তথ্য সরবরাহ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পারবে।
ডিএসইতে সপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। গড়ে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার বেচাকেনা হয় কোম্পানিটির যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গড়ে ১৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লেনদেন করে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি। ডিএসইর সপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ওরিয়ন ইনফিউশন, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, লাভোলো আইসক্রিম, ডমিনেজ স্টিলস ও স্কয়ার ফার্মা।



