মক্কা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ঐক্যের নতুন বার্তা দিচ্ছে : শাহবাজ শরিফ

Printed Edition
মক্কা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ঐক্যের নতুন বার্তা দিচ্ছে : শাহবাজ শরিফ
মক্কা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ঐক্যের নতুন বার্তা দিচ্ছে : শাহবাজ শরিফ

ডন

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ইস্পাতকঠিন ঐক্যের এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ পারস্পরিক সম্পর্কের এক অনন্য উচ্চতায় উপনীত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রহমান বিন আবদুল-মহসেন আল-ফাদলির সাথে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সার্বিক স্থিতিশীলতা অক্ষুণœ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে গত ৭ আগস্ট মক্কায় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দুই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দুই দেশ এখন নতুন এক যুগে পদার্পণ করেছে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কৃষির বিস্তার প্রাধান্য পাচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের গঠনমূলক সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ করে পাকিস্তানে উৎপাদিত কৃষি পণ্য সৌদি আরবে রফতানির বিষয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা এবং আধুনিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাকিস্তানের কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করে। পাক প্রধানমন্ত্রী জানান, এই অংশীদারিত্বের পূর্ণ সুফল অর্জন এবং আলোচনা এগিয়ে নিতে খুব জলদিই পাকিস্তানের একটি বিশেষজ্ঞ দল রিয়াদ সফরে যাবে। অন্য দিকে সৌদি মন্ত্রীও খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি খাতের উন্নয়নে ইসলামাবাদের পাশে থাকার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো এক সদস্য দেশের ওপর সামরিক আক্রমণ বাকি সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। পাকিস্তান সরকার স্পষ্ট করেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী যেকোনো দেশের যুক্ত হওয়ার জন্য এই চুক্তির দরজা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।