হামলা বন্ধ না হলে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি সাদিক কায়েমের

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। নির্বাচন-পরবর্তী মারামারি ও হানাহানির রাজনীতি বন্ধ না হলে ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডাকসু ভিপি। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনটি লাশ পড়েছে। শতাধিক হামলার ঘটনা আমরা তালিকাভুক্ত করেছি। অথচ জুলাইয়ের আন্দোলন হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো একই মারামারি-হানাহানির রাজনীতি চলছে। সাদিক কায়েম বলেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আবারো রাজপথে নামবে। জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তা বরদাশত করা হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা নির্বাচনের পর দায়িত্বে এসেছেন, তাদের উচিত হবে প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ থাকলেও জামায়াত আমির ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিছু জায়গায় ভোট পুনর্গণনা চলছে, সেখানেও তারা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডাকসু ভিপি বলেন, সারা দেশে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা জাতিকে হতাশ করেছে। ক্ষমতা দেখিয়ে হল দখল বা হুমকির রাজনীতি আর চলবে না। যারা এসবের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র চেয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, যেভাবে হুমকির রাজনীতি শুরু হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত। স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারকে বিরোধী দলগুলোর সাথে বসে দ্রুত সমাধান বের করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ডাকসু নেতারা জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ এমনটাই জানান তারা।