সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনার শাখা নদী মেনিখালি, সরকারি খাসজমি, মসজিদের জমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে আবুল খায়ের কাশেম গ্রুপের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আনন্দ বিল্ডার্সের জমি কেনার পর আশপাশের আরো জমি ভরাট করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন জমির মালিক নিজেদের জমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন মাস আগে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় আনন্দ বিল্ডার্সের জমি কেনার পর সেখানে বালু ভরাট শুরু হয়। মেনিখালি নদীর কিছু অংশেও বালু ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আষাঢ়িয়ারচর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমিও ভরাটের আওতায় পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, মসজিদের প্রায় ৩০ শতাংশ জমি এবং আশপাশের সরকারি জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে বাগি¦তণ্ডা এবং স্থানীয় মুসল্লি ও জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চর রমজান, সোনাউল্লা ও আষাঢ়িয়ারচর মৌজার বিভিন্ন দাগের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, সরকারি খাসজমি ও মসজিদের জমিসহ প্রায় শত বিঘা জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে এবং এখনো ভরাটের কাজ হচ্ছে। এসব জমির প্রকৃত মালিকানা ও ভরাটের বৈধতা প্রশাসনের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া দাবি জানান জমির মালিক ও সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী নিয়াজ আহমেদ বলেন, জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি সেখানে যেতে পারছেন না। চার দিকে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে মামলা ও পুলিশ দিয়ে হয়রানির হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু ভরাটের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গেট ও কাঁটাতারের বেড়া দেয়ায় জমির মালিকদের চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা তাদের জমি, নদী ও সরকারি জমি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করছেন।
এ দিকে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে গেলে আবুল খায়ের কাশেম গ্রুপের নিরাপত্তা বিভাগের ইনচার্জ বিল্লাল হোসেন তার কর্মীদের দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেন। এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে গ্রুপটির প্রকল্পপ্রধান জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।



