আরফাত বিপ্লব চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে পানি সঙ্কট নিরসনে ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ৪৫ গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াসা। কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি চেয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ বিষয়ে গত ৩ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মো: জানে আলম। সেতু বিভাগ থেকে প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে এখন প্রতিদিন কয়েক কোটি লিটার পানির সঙ্কট রয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ কোটি থেকে ৫১ কোটি লিটার হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার। তবে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ ও ২ থেকে উৎপাদন হয় ২৮ কোটি লিটার। এ ছাড়া মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার এবং গভীর নলকূপ থেকে প্রায় চার-পাঁচ কোটি লিটার উৎপাদন হয়। গ্রীষ্ম ও রমজানের মতো তীব্র চাহিদার মৌসুমে শহরের দৈনিক চাহিদা থাকে প্রায় ৬০ কোটি লিটার। এ সময় উৎপাদন কমে ৪৫ কোটি লিটারে চলে আসে।
এ দিকে দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইন জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পতেঙ্গা এলাকার ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি পৌঁছায়নি। বর্তমানে পতেঙ্গাসহ নগরীর যেসব এলাকায় পানির সঙ্কট রয়েছে সেসব এলাকায় দ্রুত পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াসা।
নগরবাসীর সুপেয় পানির সঙ্কট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি। তিনি জানান, পানির সঙ্কট নিরসনে ৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে, ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এই ৩০টির কাজ শেষ হলে আরো ১৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। আগামী ৪-৫ মাসের মধ্যে এই ৪৫টি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক সাড়ে চার কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে। এর মধ্যে কয়েকটি নলকূপের পানি উৎপাদনের টেস্টিং চলছে।
জানা গেছে, নগরীতে পানি সঙ্কট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার জন্য কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের বিদ্যমান উৎপাদন ক্যাপাসিটি ছয় কোটি লিটার। এই ক্যাপাসিটি আরো ১০ কোটি লিটার বাড়ানো হবে। প্রকল্পের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে কথা হয়েছে। এই সপ্তাহে ঢাকায় মিটিং হবে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে দক্ষিণ কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ছয় কোটি লিটার থাকলেও চাহিদা কম থাকায় উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২৫ লাখ লিটার। এখন শুধু পটিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলায় আবাসিকে কিছু পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এই দুই উপজেলায় তিন হাজারের মতো সংযোগ দেয়া হয়েছে। শিল্পকারখানাগুলোর মধ্যে শুধু সিইউএফএল সংযোগ নিয়েছে। ড্যাপ বা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার কারখানায় সংযোগের কাজ চলছে।



