উখিয়া-টেকনাফে জমে উঠেছে দ্বিমুখী লড়াই শেষ মুহূর্তে বদলাচ্ছে সমীকরণ

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)
Printed Edition

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী শুরুতে এগিয়ে আছেন, এমন ধারণা থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে।

এ আসনে অতীতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব একটা দেখা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ভোটের মাঠ কার্যত দ্বিমুখী হয়ে উঠেছে। ফলে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে।

শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত ইমেজ, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং চারবারের সংসদ সদস্য হিসেবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাকে শুরুতে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রাখে। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিয়নে অনানুষ্ঠানিক মতামত ও মাঠপর্যায়ের প্রচারণা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভোটের ব্যবধান খুব কম হতে পারে।

জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজালাল চৌধুরী, শিল্পপতি আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া ও পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী। তারা বিভিন্ন জনসভায় পরিবর্তন, জবাবদিহি ও সুশাসনের বার্তা তুলে ধরছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সঙ্কট ও স্থানীয়পর্যায়ের অনিয়মের অভিযোগও তাদের বক্তব্যে স্থান পাচ্ছে।

অন্য দিকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও রতœাপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী উন্নয়ন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিষয়টি সামনে এনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, অভিজ্ঞ নেতৃত্বই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। একাংশ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রতীক ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অন্য দিকে আরেক অংশ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফ আসনে শুরুতে একপেশে মনে হলেও শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার নিয়েছে। চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি ও কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর। এখন সবার নজর ব্যালটের ফলাফলের দিকে।