রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিমের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণে অনিয়ম, ভুয়া ব্যক্তির নামে চাল উত্তোলন এবং অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তদন্তে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
গত সোমবার রামগড় পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ করে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম চলছিল।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ২৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রকৃত দায়িত্বশীল ব্যক্তির পরিবর্তে ভুয়া ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি অস্তিত্বহীন মাদরাসার নামেও বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
ইসলামপুর রশিদিয়া মাদরাসার সভাপতি আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, তার পরিবর্তে অপরিচিত এক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি কোনো চাল পায়নি। বলিটিলা তা’লীমুল কুরআন মাদরাসার সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক দাবি করেন, এক টন চালের পরিবর্তে তাদের ৯ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পিআইওর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পিআইও করিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, করিম এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগে সমালোচিত হন। এরও আগে ২০২০ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।



