ঈদ মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ছে জাল নোট

সতর্ক অবস্থায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী

মার্কেট, শপিংমলগুলোতে ঈদে কেনাকাটায় উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই নানা কৌশলে জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে একাধিক চক্র, যা শুধু মার্কেট-শপিংমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিটি সেক্টরে। অধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে তৈরি করা জাল টাকার নোট সহজে ধরতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। তবে বিপাকে পড়ে যাচ্ছেন ব্যাংক বা অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির কাছে গিয়ে।

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

হাজার কোটি টাকার ঈদ মার্কেটে কৌশলে ছড়িয়ে পড়ছে জাল টাকার নোট। মার্কেট, শপিংমলগুলোতে ঈদে কেনাকাটায় উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই নানা কৌশলে জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে একাধিক চক্র, যা শুধু মার্কেট-শপিংমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিটি সেক্টরে। অধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে তৈরি করা জাল টাকার নোট সহজে ধরতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। তবে বিপাকে পড়ে যাচ্ছেন ব্যাংক বা অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির কাছে গিয়ে।

জাল টাকা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতার কারণে বারবারই কৌশল বদলাচ্ছে চক্রগুলো। তাদের সেই নতুন কৌশল ধরতে আবার কিছুদিন সময় লাগছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের। আর এই সময়ের মধ্যেই নতুন কৌশলে বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে জাল টাকা। মূলত ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের মৌসুমকে জাল টাকার ব্যবসায়িক মৌসুম হিসেবে মনে করা হয়। কারণ ঈদের আগে হাজার কোটি টাকার কেনাবেচা হয়ে থাকে মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে। এবারের ঈদেও ব্যতিক্রম হয়নি।

ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ লাখ টাকার জাল নোট-সহ দু’জনকে আটক করেছে র‌্যাব। তবে জাল টাকাসহ জালিত চক্রের মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও বরাবরের মতো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল হোতারা। এমনকি কোন ছাপাখানা বা টাঁকশাল থেকে জাল টাকা ছাপা হচ্ছে তার সন্ধানও খুব বেশি পাচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের গ্রেফতার করা হলেও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে এবং গডফাদারদের তদবিরে তারাও কিছুদিনের মধ্যে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এরপর পুরনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পুনরায় লিপ্ত হচ্ছে জাল টাকার ব্যবসায়।

র‌্যাব-৩-এর সিনিয়র এসি সনদ বড়–য়া জানান, গত বৃহস্পতিবার তুরাগ থানার ডলিপাড়া বাদলদী এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে নাইমুল ইসলাম ইশান (১৯) ও কেফায়েত উল্লাহ (১৯) নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যমানের পাঁচ হাজার পাঁচটি জাল নোট জব্দ করা হয়। যার মোট মূল্য প্রায় ২৫ লাখ দুই হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, দু’টি লেজার প্রিন্টিং ডাইস, একটি প্রিন্টার ও তিনটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, জাল টাকা চক্রের অসংখ্য সিন্ডিকেট রয়েছে। এরা মূলত ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের আগে বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

জানা গেছে, মাদককারবারি ও চোরাকারবারিদের মাধ্যমেও আনা হচ্ছে জাল টাকা। মাদক ও চোরাকারবারের টাকা হস্তান্তরের সময় কৌশলে জাল টাকা আদান-প্রদান করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে এই টাকা চলে যায় সাধারণ মানুষের হাতে। এ দিকে দেশে কারা এই জাল নোট তৈরির সাথে সরাসরি যুক্ত সে ব্যাপারে পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা নেই। জাল নোট-সহ কেউ ধরা পড়লেই কেবল তাকে জালিয়াত চক্রের সদস্য হিসেবে পুলিশ উল্লেখ করে থাকে; কিন্তু আসল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। জালিয়াত চক্রের মাঠপর্যায়ের দোসররা ধরা পড়ে গেলেও গডফাদাররা তাদেরকে যেভাবে হোক ছাড়িয়ে নিচ্ছে।

মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ঈদ সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের। জাল টাকা, ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপার্টি, টানাপার্টিসহ চাঁদাবাজদের প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বাহিনীর প্রতিটি সদস্য। বিশেষশত ব্যাংক, বীমা, এটিএম বুথ, বড় বড় শপিংমলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন গোয়েন্দা সদস্যরা।