ঈদে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পটুয়াখালীর হেয়ার আইল্যান্ড

Printed Edition

রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার নৈসর্গিক দ্বীপ হেয়ার আইল্যান্ড, স্থানীয়ভাবে পরিচিত চর হেয়ার নামে। বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বীপে এবারো পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দ্বীপে রয়েছে বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা, ঢেউয়ের মৃদু আছড়ে পড়া আর নির্মল পরিবেশ। দ্বীপের ভেতরে রয়েছে ঝাউ, কেওড়া, বাইন, গেওয়া ও গোলপাতার গাছের ঘন সবুজ বন, যেখানে বিচরণ করে নানা প্রজাতির পাখি। বালুচরে দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার দল, আর দূরে সাগরে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।

ভৌগোলিকভাবে চর হেয়ার রাঙ্গাবালীর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। এর পাশেই বন বিভাগের সংরক্ষিত ‘সোনার চর’ বনাঞ্চল, যেখানে হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ।

শীতকাল ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হলেও ঈদের ছুটিতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পর্যটকদের আগমন বাড়ে। ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ ঘাটে এসে সেখান থেকে ট্রলার বা স্পিডবোটে সহজেই পৌঁছানো যায় এই দ্বীপে। কুয়াকাটা থেকেও সাগরপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে।

দ্বীপটিতে কোনো আবাসিক হোটেল না থাকায় পর্যটকদের তাবুতে অবস্থান করতে হয় অথবা দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসেন অনেকে। ভোরে সূর্যোদয়, সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত, আর সাগরের গর্জন মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ।

সব মিলিয়ে নির্জনতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে হেয়ার আইল্যান্ড এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে, যা ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।