আকুকে পূর্ণ সমর্থন বিসিবির

Printed Edition
জেরার মুখে পড়া অলরাউন্ডার সাইফ হাসান
জেরার মুখে পড়া অলরাউন্ডার সাইফ হাসান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফিক্সিংয়ের কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অতীতে অনেকবার কলঙ্কিত হয়েছে। এবারের বিপিএলে এ জাতীয় কোনো ঘটনার সূত্রপাত নেই। বলা যায় ফিক্সিংয়ের কালো থাবা থেকে মুক্ত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা ক্যাপিটালসের কারণে আবারা আলোচনা। ঢাকা ক্যাপিটালসের রহমানউল্লাহ গুরবাজ যখন ঘুমোতে গেছেন, তখনো তার রুমে দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা ঢুকে পড়েন। যা পছন্দ হয়নি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদের। তিনি অভিযোগ করেন, টিম ম্যানেজার বা খেলোয়াড় কাউকে না জানিয়ে গুরবাজের রুমে ঢুকে তার ফোন ঘেঁটে দেখা হয়েছে। প্রধান নির্বাহীর ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মতে, এমনি এমনি কারো ফোন নেয় না। এটা পর্যবেক্ষণের একটা অংশ। আমার ফোনও যেকোনো সময় নিতে পারে। তাদের সেই অধিকার রয়েছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘তারা খুবই কঠোর। একটা পিএমও এরিয়া আছে, যেখানে আপনি জানেন আম্পায়াররাও থাকেন ও বসেন। সেই এলাকার মধ্যে মানে ড্রেসিংরুমের দিকে আমারও যাওয়া নিষেধ। দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালায় স্পষ্ট লেখা আছে, তাদের সেভাবে পর্যবেক্ষণ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ১৫ তারিখের পর আমাদের দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তারা আপনাদের জানাবেন।’

বিশ্বকাপসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ফিক্সিং ঠেকাতে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, এবারের বিপিএলেও সেভাবেই সবকিছু হচ্ছে বলে জানান মিঠু। ‘অভিযোগ নিয়ে কিছু বলার নেই। দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট একটা স্বাধীন ইউনিট। বিশ্বকাপেও যেভাবে হয়, অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও যেভাবে হয়, বাংলাদেশ সেটাই অনুসরণ করছে।’

মিঠুর মতে এবারের বিপিএলে দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এন্টি করাপশন ইউনিট বা আকু) কঠোর হওয়ায় ফিক্সিং অনেকটা কমে গেছে। ‘আমি যেটা নিশ্চিত হয়েছি, তারা দুর্নীতিবিরোধী ধারা ও নিয়মে যা আছে, সেটা শতভাগ বজায় করে চলেছে। আপনারা দেখবেন সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড কমে গেছে।’

ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্রিকেটর সাইফ হাসানকে প্যাড পরা অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

খেলোয়াড়দের রুমে ঢুকে যাওয়া ছাড়াও ঢাকা ক্যাপিটালসের অভিযোগ, ব্যাটিংয়ে নামার আগে জেরার মুখে ফেলা! রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ হান্নান সরকারের মতে, এটা অনেক বাজে হয়েছে। সত্যি বললে এবার অনেক কড়াকড়ি রয়েছে এটা সত্য। ঢাকার যে বিষয়টি দেখেছি, শুনেছি তা বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে ব্যাটিংয়ে নামার আগে কোনো ক্রিকেটারকে জেরা করা যায় কি না, এটা নিয়মের মধ্যে থাকলে কোনো দ্বিধা বা সংশয় আসে না। নিশ্চিতভাবেই কারো রুম, মোবাইল সার্চ করা উনাদের অধিকার রয়েছে। কিন্তু তারও একটা নিয়ম রয়েছে। আমি যতটুকু জানি যে ম্যানেজারকে জানিয়ে সেটা করতে হয়।’

তবে ম্যাচ চলাকালীন হস্তক্ষেপ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন হান্নান, ‘এটা অনেক বাজে হয়েছে। খেলার মধ্যে যদি একাদশে আসে, ব্যাটিংয়ে নামবে এমন কাউকে কোনো প্রশ্ন করতে হলে অবশ্যই ম্যানেজারের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার দলে (এই প্রক্রিয়া না মানা হলে) এই ধরনের পরিস্থিতি আসলে নিশ্চিতভাবেই আমি এটা এলাউ করব না।’