এএফপি
মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় চৌং উ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী থাডিংজুত বৌদ্ধ উৎসব ও জান্তাবিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্যারাগ্লাইডার থেকে বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় শত শত মানুষের জমায়েতে একটি মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার থেকে দু’টি বোমা ফেলা হয় বলে জানিয়েছে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)। নির্বাসিত ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারের এক মুখপাত্র জানান, হামলার সময় মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে জান্তার নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছিল।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, যাতে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জাতিসঙ্ঘের অনুমান। পিডিএফ আগেই আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘প্রথম বোমা পড়ার পর আমি মাটিতে পড়ে যাই; কিন্তু তাও আমার হাঁটুর নিচে আঘাত লাগে। আমার পাশেই মানুষ মারা যায়।’
স্থানীয়রা জানান, হামলার ধ্বংসযজ্ঞ এত ভয়াবহ ছিল যে লাশ শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়ে। এক নারী বলেন, ‘শিশুরা পুরোপুরি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।’ তিনি হামলার সময় উপস্থিত না থাকলেও পরদিন শেষকৃত্যে অংশ নেন এবং জানান, এখনো মৃতদেহ সংগ্রহ চলছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলাকে ‘উদ্বেগজনক প্রবণতা’ হিসেবে অভিহিত করে জান্তার প্যারাগ্লাইডার ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টারের ঘাটতি পূরণে জান্তা এ ধরনের প্যারামোটর হামলায় নির্ভরশীল হয়ে উঠছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
অ্যামনেস্টির মিয়ানমার গবেষক জো ফ্রিম্যান বলেন, ‘এটি বেসামরিকদের সুরক্ষার জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা।’ তিনি আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা মিয়ানমার বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে। এ মাসেই আসিয়ানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সোমবারের প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান, আসন্ন নির্বাচন এবং অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবি জানান।
ডিসেম্বরে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না এবং এটি জান্তাকে আরো ক্ষমতাশালী করে তুলবে।



