যশোর-২ ও ৫ আসনে ঘোড়া-কলস নিয়ে বেকায়দায় বিএনপি জোট

এম আইউব, যশোর অফিস
Printed Edition

যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে যশোর-২ ও যশোর-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে চরম বেকায়দায় পড়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। দুই আসনেই দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে জোট শরিকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে হতাশা। পরিস্থিতির সুযোগ নিতে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।

চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-২ আসনে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপি নেতা সাবিরা সুলতানা। তবে শুরু থেকেই তার মনোনয়নের বিরোধিতা করে আসছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সামাদ নিপুণ। তারা প্রকাশ্যে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে সাবিরা সুলতানার মনোনয়নের বিরোধিতা করেন।

এই বিরোধিতার মধ্যেই বিএনপি সাবিরা সুলতানাকে মনোনয়ন দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। শেষ পর্যন্ত অন্যরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। বুধবার তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ‘ঘোড়া’ প্রতীক বরাদ্দ পান।

প্রতীক বরাদ্দের পর স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এই বিদ্রোহ। ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, জহুরুল ইসলামের প্রার্থী হওয়া ধানের শীষের ভোটে বিভাজন তৈরি করতে পারে। এর ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা: মসলেহ উদ্দীন ফরিদ। স্থানীয়ভাবে তার প্রতি ভোটারদের ঝোঁক বাড়ছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে পরিস্থিতি আরো জটিল। এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মরহুম মুফতি ওয়াক্কাসের ছেলে রশিদ বিন ওয়াক্কাস। তবে এই মনোনয়ন মেনে নেননি উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি ও মণিরামপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট শহিদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা প্রার্থী হওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বিএনপি নেতৃত্ব। ইতোমধ্যে শহিদ মোহাম্মদ ইকবালকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠপর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা জোট প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সুযোগে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। স্থানীয়দের দাবি, বিএনপি জোটে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটারদের একটি বড় অংশ জামায়াত প্রার্থীর দিকে ঝুঁকছে।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘জহুরুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। এর পরও কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। আমরা নেতাকর্মীদের স্পষ্টভাবে ধানের শীষে ভোট দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। সবাই দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে মাঠে থাকবে।’