রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

ভিসি সম্মেলন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় ও প্রভাব খাটিয়ে অনুমোদন দেয়া সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সাথে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করতে দেশে উন্নত বিশ্বের আদলে একটি বিশেষায়িত পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সাভারের আশুলিয়ায় ব্র্যাক সিডিএমে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ভিসি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনার কথা জানান। ইউজিসির হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই ভিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশেই আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী দেশে একটি পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিশেষ আগ্রহ দেখিছেন। প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বজুড়ে এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও বাংলাদেশে এখনো তা গড়ে ওঠেনি। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে।

শিক্ষাকে মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে। শিক্ষা বাজেটের পরিমাণ বাড়িয়ে ইতোমধ্যে মোট জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগামী বছর ৩ শতাংশ এবং পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

উচ্চশিক্ষা সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন করতে হবে। নতুন বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ চাহিদাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের মানহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরকার এখনই কঠোর ব্যবস্থা বা বন্ধের পথে যাচ্ছে না। তবে ভালো মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে ইউজিসিকে নির্দেশ দেন তিনি। বর্তমান সরকার কোনো নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিসার্চ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার মতো গবেষণার পরিবেশ তৈরির তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক শিক্ষাবাজারে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো বিদেশী শিক্ষার্থী দিয়ে শিক্ষাবাজার হাজার কোটি ডলারে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: ফরিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার।

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক নীতির সাথে সমন্বয় রেখে দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ইউজিসি কাজ করছে। শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষার্থী সহায়তা, আর্থিক ও ক্রয় ব্যবস্থাপনা এবং হিট প্রকল্পের ভূমিকা নিয়ে চারটি মূল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে ইউজিসি সদস্যরা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা অংশগ্রহণ করে উন্মুক্ত আলোচনা করেন।