ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল। দেখতে দেখতে কেটে গেল এক মাস। শিরোপা মঞ্চে স্বাগতিক ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত জানান কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ব্যাট হাতে ইনিংসের সূচনা করতে আসেন ভারতকে ফাইনালে তোলার নায়ক সঞ্জু স্যামসন ও প্রিন্স হিটার অভিষেক শর্মা। দু’জনের উদ্বোধনী জুটিতে ভারত পেল ৯৮ রানের বিশাল সংগ্রহ। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে এর আগে কোনো ওপেনিং জুটিতে ৫০ রানও পায়নি কোনো দল। এই রান তুলতে তাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে ৪২ বল। অষ্টম ওভারের প্রথম বলেই স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রর প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত হন অভিষেক। ২১ বলে ৫২ রান নিয়ে ফিরেন এই ওপেনার।
টি-২০ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন অভিষেক শর্মা। আলোচনা থেকে এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এবার ফাইনালে মঞ্চে খেললেন ২৫ বছর বয়সী এই বাঁ হাতি ব্যাটার। শুধু খেললেন না, সব সমালোচকদের মুখে তালা লাগিয়ে দিলেন এই ওপেনার। অথচ পুরো টুর্নামেন্টে কেবল ছিল একটি ফিফটি।
সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে টিকে থাকার ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন ৩০ বলে ৫৫ রান। এর আগে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তার শুরুটা ছিল এক বল মোকাবেলায় কোনো রান না করে। ১২ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশেই ছিলেন না এই ওপেনার। পরের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে দলে ফিরে চার বল মোকাবেলা করলেও এবারো শূন্য। প্রতিপক্ষ এবার নেদারল্যান্ডস। এখানেও রানের খাতা খোলতে পারলেন না। সুপার এইট গ্রুপ-১-এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১২ বলে ১৫ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি।
ফাইনালের আগে ফাইনাল। সুপার এইট পর্বের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ড্র-অর-ডাই ম্যাচেও ব্যর্থ ২৫ বছর বয়সী এই বাঁ হাতি ব্যটার। ১১ বলে করলেন ১০ রান। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও কথা বলেনি তার ব্যাট। সাত বল মোকাবেলায় ৯ রানেই ইনিংস থেমে যায় অভিষেকের। সবকিছুকে যেন এবার পেছনে ফেলে দিলেন ফাইনালে। সমহিমায় ফিরে কিউই বোলারদের কচুকাটা করে ১৮ বলে করলেন ফিফটি।
তাণ্ডব চালালেন স্যামসনও
ভারতকে ফাইনালে তুলতে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে অতি মানবীয় ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ৮৯ রানের টর্নেডো ইনিংস। আর ফাইনালে তো বিধ্বংসী ব্যাটিং করে ভারতীয় সমর্থকদের মুগ্ধ করেছেন। আবার উপহার দিলেন ৪৫ বলে ৮৯ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস। এই ইনিংসের সুবাদে তিনি টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের নতুন রেকর্ড গড়েন। যা দলের বড় স্কোর গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আর এই ইনিংস খেলার পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলসের রেকর্ড ভাঙেন স্যামসন। ২০১৪ সালের ফাইনালে তাই স্বদেশী বিরাট কোহলির করা ৭৭ রানের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যান তিনি।
এই আসরে ১৬টি ছক্কা মেরে তিনি একটি টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন। ছাড়িয়ে গেছে ১৫টি ছক্কার রেকর্ড গড়া রোহিত শর্মাকে।



