নিজস্ব প্রতিবেদক
বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি জনশক্তি ব্যুরোর তদন্তে প্রমাণ হওয়ার পরও শুধুমাত্র মানবিক কারণ দেখিয়ে লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক অধ্যক্ষ মো: দেলোয়ার উদ্দিন আহমেদকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থাণ ব্যুরোর প্রশাসন শাখার কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিয়ে কৌশলে ‘পছন্দের’ কর্মকর্তাদের সেখানে পদায়ন করছেন। টিটিসির চাপে থাকা কর্মকর্তারা জানান, এমন ঘটনায় প্রায়ই বিভিন্ন জেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ-ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে পদায়ন দেয়া না দেয়া নিয়ে মন্ত্রনালয় ব্যুরোতে অভিযোগ জমা পড়ছে।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা নয়া দিগন্তের কাছে অভিযোগ করেন, দেশের অধিকাংশ জেলায় টিটিসির অধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে বদলি ও পদায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে সুস্পষ্ট অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জম দেয়ার পরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো কর্মকর্তাদের দোষক্রটি বিবেচনা না করে ইচ্ছা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেই অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়।
এর আগে কর্মকর্তাদের নামে অভিযোগ তদন্তের নামে চিঠি চালাচালি শুরু হলেও কিছুদিন না যেতেই সেই তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে ‘যোগ্য’ কর্মকর্তা না থাকার কারণ দেখিয়ে সেখানকার (টিটিসির চিফ ইন্সট্রাক্টর) কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে কারো কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে দায়িত্ব দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিধি ও মতামত শাখায় প্রায় জমা পড়ছে। সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূইয়া স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক অধ্যক্ষ (বর্তমানে সংযুক্তিতে কর্মরত ঢাকা টেকনিক্যাল ট্রেনিং টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের) মো: দেলোয়ার উদ্দিন আহমেদকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, তিনি বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপাস্থিত ছিলেন এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর তদন্তে প্রমাণ হয়েছে। এরপর এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৫ জুলাই দেলোয়ার উদ্দিন আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। একই সাথে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নেবেন কি-না তাও লিখিতভাবে জানানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়ে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে তার দেয়া আবেদন পর্যালোচনা, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য, ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র ও মেডিক্যাল রিপোর্ট পর্যালোচনার পর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেখা গেছে দেলোয়ার উদ্দিন আহমেদ বাস্তবিকই দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনার করে মানবিক কারণে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে দিনাজপুর জেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো: মাসুদ রানার বিরুদ্ধে সরকারি টাকায় নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন, অনিয়ম, দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্তে প্রমাণ হওয়ার পরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আরো গুরুত্বপূর্ণ জেলার টিটিসির অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধ্যক্ষ মাসুদ রানার মতো এমন অনেক কর্মকর্তা এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ টিটিসির অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।



