১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও এ পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘের কোনো সদস্যরাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি। ইসরাইলের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমালিয়া সরকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। সোমালিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সালাম আবদুল আলি মিসর, তুরস্ক ও জিবুতির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে জরুরি ভিত্তিতে কথা বলেছেন এবং তিনটি দেশই সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোমালিল্যান্ডের এই স্বীকৃতি হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করবে। একসময়ের ব্রিটিশ-শাসিত এই অঞ্চলটি সিয়াদ বারের শাসনকালে চলা নৃশংস গৃহযুদ্ধের সময় সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। গত তিন দশকে সোমালিয়ার বড় অংশ যখন গৃহযুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলায় ডুবে ছিল, তখন সোমালিল্যান্ডে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় ছিল এবং তারা নিজস্ব সংসদ, মুদ্রা ও পতাকা গড়ে তুলেছে।
ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার জানিয়েছেন, দুই সরকারের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে চলা দীর্ঘ আলোচনার ফলে এই যৌথ ঘোষণাপত্র সই হয়েছে। সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ভিডিও কলে নেতানিয়াহুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, তার দেশ আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পেতে সোমালিল্যান্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তাইওয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের প্রভাবে এই অঞ্চলটির ভাগ্য ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী সিনেটর টেড ক্রুজসহ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনেকেই দীর্ঘ দিন ধরে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। যদিও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি। তবে ইসরাইলের এই একক স্বীকৃতির পর ইউরোপ ও আমেরিকার অন্যান্য মিত্র দেশগুলো সোমালিল্যান্ডের প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করে, সেটিই এখন বিশ্বরাজনীতির দেখার বিষয়।



