রাজধানীর চলমান গ্যাস সঙ্কট নিরসনে সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
তিনি রাজধানীর বিজয় সরণির একটি রেস্তোরাঁয় গ্যাস সঙ্কট, দুর্নীতি, জলাবদ্ধতা, নগর নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ক নগর উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক আলোচনা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তেজগাঁও উত্তর থানা আমির হাফেজ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি রাসিবুল হক নাসিফের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসাইন ও মু. আতাউর রহমান সরকার। উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও দক্ষিণ থানা আমির ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদিসহ নেতৃবৃন্দ।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, চলমান গ্যাস সঙ্কটে নগরজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। কিন্তু এ সমস্যা সমাধানে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে এ সমস্যা সমাধানে সরকারের একটি মেগা পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে। তাই জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আপৎকালীন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি ঘুষ-দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, দেশটা এখন ঘুষ ও দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। করদাতাদের কর প্রদান করতেও ঘুষ দিতে হয়। তাই নগরীর সব সেবা ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। তিনি ঢাকা সিটি নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, জনগণ আগামী দিনে জামায়াতের হাতে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব প্রদান করলে ডিএনসিসিকে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নাগরিকবান্ধব নগরীতে পরিণত করা হবে। তিনি বসবাসযোগ্য নগরী গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিনেও রাজধানীর মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি, পানি ও গ্যাস সঙ্কট, যানজট এবং ফুটপাথ দখল নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যার সমাধানে সঠিক পরিকল্পনা ও সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তিনি রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে বলেন, সড়কে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। জলাবদ্ধতা সম্পর্কে মহানগরী আমির বলেন, বর্ষা শুরুর আগেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার, নিয়মিত খাল খনন এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিন্তু নগর প্রশাসন এ বিষয়ে খুবই উদাসীন। তাই নগরজীবনের সার্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব হস্তান্তরের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সুখী, সমৃদ্ধ ও আদর্শ নগরী গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি।



