নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি আমরা দেখতে চাই’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড’-এর প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।
তিনি তার বক্তব্যে ভবিষ্যতে সোসাইটির কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রয়োজন এবং আগামী দিনে নির্বাচিত নেতৃত্ব কিভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে এসব বিষয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ‘ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড’-এর উদ্যোগে ‘একনজরে বাংলাদেশ সোসাইটি’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংকলন প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ। আলোচনায় উঠে আসে- অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বের সুযোগ দেয়া হলে বাংলাদেশ সোসাইটিতে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মধ্যে একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশী কমিউনিটির শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটি একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশী ভোটারদের এই শক্তিকে শুধু নির্বাচনী রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কমিউনিটির শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, তরুণদের বিকাশ এবং কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
আলোচনায় আরো উঠে আসে- বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্বে আসার জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম যোগ্যতা কী হওয়া উচিত এবং কিভাবে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই দলের প্রধানদের নিয়ে একটি নির্বাচনী বিতর্কের উদ্যোগ আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
প্রস্তাবিত আলোচনার কাঠামো অনুযায়ী, দুই প্যানেল থেকে দুইজন করে মোট চারজন প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ১৫ জন স্টুডিওতে উপস্থিত থেকে আলোচনায় মতামত প্রদান ও মূল্যায়নে অংশ নিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি মুক্ত, গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ধরনের আলোচনা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে আরো সক্রিয় হতে উৎসাহিত করবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বাংলাদেশী কমিউনিটির কল্যাণ ও উন্নয়নে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।



