বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ শুরু আজ

নতুন সম্পর্কে টাইগারদের লক্ষ্য জয়

জসিম উদ্দিন রানা
Printed Edition

এক দশকেরও বেশি অপেক্ষার পর আবারো ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। বিগত কয়েক বছরে এই দুই দেশের ক্রিকেটীয় লড়াই ঘিরে মাঠের বাইরের নানা অস্বস্তিকর আবহ, রাজনৈতিক টানাপোড়েন কিংবা কূটনৈতিক আলোচনাই যেন বেশি জায়গা দখল করে নিত। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে প্রেক্ষাপটও। এবার সেই পুরনো অস্বস্তির জায়গায় যেন নতুন এক সম্পর্কের উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছে। ইতিহাস, আবেগ আর সাম্প্রতিক ক্রিকেট কূটনীতির মিশেলে এই সিরিজ যেন শুধু একটি ক্রিকেট লড়াই নয় বরং দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের নতুন এক গল্পের সূচনা। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে কে লিখবে প্রথম দিনের জয়গাথা।

সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহই এই পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপ ঘিরে যখন বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির অনীহা স্পষ্ট হয়ে উঠছিল, তখনই পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট না করলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা জানিয়ে দেয় নিজেদের অবস্থান। তাদের দৃঢ় অবস্থানেই নড়ে বসে আইসিসি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপর কোনো শাস্তি না দিয়ে বরং শর্ত মেনে নেয়ার পথেই হাঁটে ক্রিকেটের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেই মুহূর্ত থেকেই পাকিস্তানের প্রতি বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে তৈরি হয় এক ধরনের সফট কর্নার। এমন এক ভিন্ন আবহেই শুরু হচ্ছে দুই দলের নতুন অধ্যায়। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বেলা ২.১৫ মিনিটে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী পাকিস্তান। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে তরুণ ও উদ্যমী এক বাংলাদেশ দল মাঠে নামবে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি অনেক বেশি টি-২০ ম্যাচ খেলার পর ওয়ানডে ফরম্যাটের ছন্দে ফেরাটা টাইগারদের জন্য জরুরি। অন্য দিকে ২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করাও প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের। আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতির জন্য ভালো ব্যাটিং উইকেটও প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

আগামী বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ভালো উইকেটে খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে আমাদের। বিশ্বকাপের উইকেট সবসময় ভালো হয়ে থাকে এবং আমরা এখন থেকেই ভালো উইকেটে খেলার অভ্যাস করতে চাই। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে আমাদের অনেক ম্যাচ আছে। পরিকল্পনা হলো, ভালো উইকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা। একই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপে আমাদের সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তাই আমরা যে দলগুলোর সাথে খেলব সেসব দলের বিপক্ষে আমরা ঘরের কন্ডিশনের সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করব।

বাংলাদেশের মাটিতে ২০১৫ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান। ওই সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল পাকিস্তান। গত বছর তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিল পাকিস্তান। এ সিরিজও ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এরমধ্যে বাংলাদেশের জয় ৫টিতে, পাকিস্তান জিতেছে ৩৪ ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৫ জয়ের চারটি এসেছে ২০১৫ সালে। তবে অতীত রেকর্ড খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ ওয়ানডেতে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে টাইগাররা।

কিন্তু ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স হতাশাজনক। তারপরও পাকিস্তানের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের সুবিধা ও রেকর্ডে এগিয়ে টাইগাররা। পাশাপাশি এবার অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন, অবশ্যই, ঘরের মাঠে যেকোনো দলই বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নামে। এটা খুবই স্বাভাবিক। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের একটি ভালো দল আছে এবং তারা হোম কন্ডিশনে খুব ভালো ক্রিকেট খেলে থাকে।

তিনি যোগ করেন, ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অন্যান্য দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা দল হিসেবে প্রস্তুত। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা সর্বশেষ দুই ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি। সম্প্রতি ওয়ানডেতে আমরা ভালো খেলেছি। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। অন্য দুই ফরম্যাটের চেয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে সচল ছিল। তারা মাঠে সেরাটা দিতে পারলে আমাদের ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। দলের সবাই শতভাগ দিয়ে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশকে হতাশা উপহার দিতে চায়।

বাংলাদেশ দল : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

পাকিস্তান দল : শাহিন শাহ আফ্রিদী (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হুসেইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলি আগা ও শামিল হুসেইন।