নূরুল ইসলাম চাটমোহর (পাবনা)
পাবনার চাটমোহরে শেষ মুহূর্তে পুরোদমে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাটগুলো। এবার হাটগুলোতে প্রচুর পরিমাণ দেশী গরুর আমদানি হলেও সেই তুলনায় ক্রেতা সমাগম কিছুটা কম। এ দিকে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করলেও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। তবে বাজারদর নিয়ে সবমিলিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এই অঞ্চলের পশুর হাটগুলো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কোরবানির পশুর জোগান দিচ্ছে। মূলত প্রতি বছরই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাটমোহরের খামারিরা বিপুলসংখ্যক পশু লালন-পালন করেন।
চাটমোহরের বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় পশুর হাটে বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে। জেলার অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাট হিসেবে পরিচিত চাটমোহরের রেলবাজার অমৃতাকুণ্ডা হাট। এই হাটে এবার রেকর্ডসংখ্যক দেশী জাতের গরু উঠেছে। চাটমোহর উপজেলা ছাড়াও পাশের ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি ও বেপারীরা এখানে পশু নিয়ে এসেছেন। তবে হাটে পশুর যে পরিমাণ আমদানি, সেই তুলনায় কাক্সিক্ষত ক্রেতা না থাকায় বিক্রেতারা কিছুটা চিন্তিত।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিয়েলবাড়ি গ্রাম থেকে আসা খামারি সোহেল রানা জানান, তিনি হাটে পাঁচটি গরু নিয়ে এসেছেন; কিন্তু ক্রেতারা যে দাম বলছেন, তাতে গরুপ্রতি পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা লোকসান হবে। আটঘরিয়া উপজেলার কোরবান আলী চারটি গরু নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো ক্রেতার দেখা পাননি। অন্য দিকে পাবনা সদরের দোগাছি গ্রামের জাহিদ হোসেন জানান, হাটে গরুর আমদানি প্রচুর; কিন্তু ক্রেতা কম। তিনি একটি গরু এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সামান্য কিছু লাভ করতে পেরেছেন।
পৌর সদরের ক্রেতা মকবুল হোসেন বলেন, হাটে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি, তবে বিক্রেতারা এগুলোর দাম একটু বেশি চাচ্ছেন। তারা কম দামে গরু ছাড়তে রাজি নন। তারপরও কোরবানির জন্য গরু তো কিনতেই হবে। ফেনী থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী লিটন আহমেদ জানান, তিনি হাট থেকে সাতটি বলদ গরু কিনেছেন। দাম তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে এবং এগুলো তিনি ফেনীর হাটে নিয়ে বিক্রি করবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: স্বপন কুমার সরকার জানান, উপজেলার হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। কোনো পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমেও পশু কেনাবেচার ডিজিটাল সুযোগ চালু রয়েছে। ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী জানান, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে মানুষ নির্বিঘেœ পশু কেনাবেচা করতে পারে।



