রাঙ্গুনিয়ায় দুই প্রবাসীসহ বিভিন্নস্থানে ৫ লাশ উদ্ধার

Printed Edition
রাঙ্গুনিয়ায় দুই প্রবাসীসহ বিভিন্নস্থানে ৫ লাশ উদ্ধার
রাঙ্গুনিয়ায় দুই প্রবাসীসহ বিভিন্নস্থানে ৫ লাশ উদ্ধার

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ২ প্রবাসী ও রাজধানীতে এক নারী চিকিৎসকসহ বিভিন্নস্থানে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দুই প্রবাসী যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ বাবর (২৮) ও মোহাম্মদ তানভির হোসেন (৩০)। গত শুক্রবার মরিয়মনগর ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মরিয়ম নগর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দ বাড়ি এলাকায় গত শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে প্রবাসী বাবরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্বজনরা জানান, কিছুদিন পূর্বে প্রবাস থেকে বাবর দেশে আসেন। বাবর পারিবারিক কলহের কারণে প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। একইদিন সন্ধ্যার দিকে মরিয়মনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলগাজী পাড়া এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় মর্মস্পর্শী ঘটনাটি। সেখানে কর্ণফুলী নদীর চরের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মোহাম্মদ তানভির হোসেন (৩০) নামের আরেক প্রবাসীর লাশ।

মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে তানভির তার ফেসবুক আইডিতে এক বুক কষ্ট আর অভিযোগের কথা লিখে যান। সেখানে তিনি শেষবারের মতো সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেন- “আমার মৃত্যুর কারণ আমার চাচা শ্বশুর এত বড় অপবাদ না দিলেও পারতেন। সবাই ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। ভালো থেকো প্রিয় বউ। সবকিছু শেষ আমার।’

এই আবেগঘন স্ট্যাটাস দেখে পরিচিতরা যখন চিন্তিত হয়ে ওঠেন, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। স্থানীয়রা নদীর চরে গাছে তাকে ঝুলতে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন বলেন, প্রবাসী দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন। এই ঘটনায় থানায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের একটি কক্ষ থেকে ফারাহ ফেরদৌস (৩২) নামের এক নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি পচন ধরেছিল। থতিনি স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন বলে মনে করছে পুলিশ। চিকিৎসক ফারাহ ফেরদৌসীর মৃত্যুতে শাহবাগ থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন তার ছোট বোন নজুলা ফেরদৌস। ফারাহর কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ থানায় খবর দেন।

নজুলা ফেরদৌসও একজন চিকিৎসক। তিনি বিএমইউতে নিউরোসার্জারি কোর্সে অধ্যয়নরত। লোকমুখে বোনের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে নজুলা শাহবাগ থানায় যান। মৃত ফারাহ ফেরদৌস ৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার কোর্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২০২২ সাল থেকে তিনি শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের ১৪ তলার একটি ফ্ল্যাটে একাকী ভাড়া থাকতেন।

শাহবাগ থানার এসআই একরামুল হক বলেন, গত ২৩ জুন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফারাহ সাথে তার ছোট বোন নজুলার কথা হয়। এরপর থেকে পরিবারের সাথে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। শুক্রবার বিকেলে খবর পেয়ে বোন নজুলাকে নিয়ে দরজা ভেঙে ফারাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। দরজা ভেঙে দেখা যায়, ফারাহ টেবিলের ওপর মাথা নোয়ানো অবস্থায় খাটের ওপর বসে ছিলেন। মরদেহে পচন ধরেথছিল। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

এসআই বলেন, ফারাহর আগে থেকে কোনো বড় শারীরিক সমস্যা ছিল না বলে তার বোন জানিয়েছেন। এ ছাড়া ফারাহার শরীরেও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোক করে ফারাহর মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শ্বশুর বাড়ি থেকে রুমা আক্তার সীমা (২৬) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার কধুরখীল শরীফপাড়ার আলী চান তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সীমা শরীফপাড়ার প্রবাসী জানে আলমের স্ত্রী। তাদের সংসারের সাত বছর বয়সী ১ ছেলে এবং ২ বছর বয়সী ১ মেয়ে রয়েছে।

নিহতের ভাই সাকিব জানান, তার বোনের স্বামী প্রবাসে রয়েছেন। শ্বশুর আগের স্ত্রী মারা যাওয়া দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। তারা দু’জনে মিলে সীমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

ছাগলনাইয়া-পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, ফেনীর ছাগলনাইয়ার ঘোপালে জোবায়ের হোসেন পারভেজ (৩১) নামের এক যুবলীগ নেতার গলা ও হাত টাকা লাশ উদ্ধার করেছে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ। প্রতিবেশীর সাথে দোকানসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জোবায়েরকে খুন করা হয়েছে বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ ।

জানাগেছে, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ঘোপাল ইউনিয়নের নিজজুঞ্জরা গ্রামের স্থানীয় প্রতিবেশী সাদেক হোসেনের ছেলে মামুনুর রশিদ ও শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে দোকানসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বাগি¦তণ্ডা হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে কুপিয়ে গলা ও হাত কেটে জুবায়ের পারভেজকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের বাবা আবু তাহের অভিযোগ করেছেন। ভোরে স্থানীয়রা জোবায়েরের লাশ দেখে স্বজন ও প্রশাসনে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। নিহত জোবায়ের ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগের পর কয়েকমাস আগে জেল থেকে ছাড়া পান বলে জানাগেছে। প্রতিবেশীর সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করার কথা জানিয়েছেন ছাগলনাইয়া থানার নবাগত ওসি আবু তাহের ।