মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
কোনো কাজ করার আগে সে কাজ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, অন্যথায় কাজটি যথাযথ হয় না। সে হিসেবে কোরবানিদাতাদের মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে জানা আবশ্যক।
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত : ১. নিসাব পরিমাণ তথা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের মালিক হওয়া। যদি কোনো ব্যক্তি কোরবানির দিনগুলোর মধ্যে নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, তবে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। যার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, সে যদি কোরবানি করে তবে সাওয়াব প্রাপ্ত হবে। ২. মুসলমান হওয়া; ৩. মুকিম হওয়া, মুসাফির না হওয়া; ৪. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া; ৫. বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া। দরিদ্র, অমুসলিম, মুসাফির এবং বিবেক বুদ্ধিহীন ও অপ্রাপ্ত বয়স্কের উপর কোরবানি ওয়াজিব নয় (ফতওয়ায়ে শামি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩১, কুদুরি, পৃষ্ঠা-৩৪৩)।
কোরবানির সময় : জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানির সময়। তবে প্রথম দিন করা সর্বোত্তম, তারপর দ্বিতীয় দিন, তারপর তৃতীয় দিন। ঈদের নামাজের পর কোরবানি করতে হবে, ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা বৈধ নয় (কুদুরি, পৃষ্ঠা-৩৪৩-৩৪৪)।
রাতে কোরবানি করার বিধান : কোরবানির তিন দিনের মধ্যে যে দু’টি রাত রয়েছে সেই দুই রাতেও কোরবানি করা জায়েজ, তবে মাকরূহ। কেননা, তখন হয়তো কোনো একটি রগ কাটা নাও হতে পারে। ফলে কোরবানি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে (আলমগিরি, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৯৬)।
অন্যের দ্বারা কোরবানির পশু জবাই করানোর বিধান : নিজ হাতে কোরবানির পশু জবাই করা মুস্তাহাব। নিজে না পারলে অন্যের দ্বারা করানো যাবে। তবে নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম। নারীরা সম্ভব হলে পর্দা করে দাঁড়াবে (শরহে তানভির, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩৪)।
জবাইকালে নিয়ত করা : নিয়ত বলা হয় অন্তরের ঐকান্তিক ইচ্ছাকে। ফলে কোরবানি পশু জবাই করার সময় মুখে নিয়ত করা এবং দোয়া পড়া আবশ্যক নয়। অন্তরে কোরবানির খেয়াল করে মুখে শুধু ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করলে কোরবানি সহিহ হবে। অবশ্য জানা থাকলে কোরবানির পশু জবাইকালীন নির্দিষ্ট দোয়া পড়া উত্তম (শামি দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৭২)।
যেসব পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ : ছয় ধরনের গৃহপালিত পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ। উট, গরু ও মহিষ- এগুলোতে সাত শরিক পর্যন্ত জায়েজ। আর ভেড়া, ছাগল, দুম্বা- এগুলোতে এক শরিকের বেশি জায়েজ নয়। উট, গরু ও মহিষে একাধিক অংশিদার হলে- সবার অংশ সমান হতে হবে। কমবেশি হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। কয়েকজন মিলে এক নামের টাকা দিলে কোরবানি হবে না। এক নামের টাকা একজনকে দিতে হবে, কয়েক ভাই মিলে পিতার নামে কোরবানি দিলে হবে না, সম্পূর্ণ টাকা একজনকে দিতে হবে। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সা:-এর নামে কোরবানি দিলে টাকা একজনকে দিতে হবে (হেদায়া, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪২২, আলমগিরি, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৬৯৫)।
পশু ক্রয় : কোরবানির পশুতে নিয়ত করতে হয় পশু ক্রয় করার সময়, জবাই করার সময় নয়। ফলে কোরবানির দিন, কোরবানিদাতার অনুপস্থিতিতে অন্য কেউ জবাই করলেও কোরবানি শুদ্ধ হবে। একটি গরু ক্রয় করার আগেই সাতজন অংশীদার সবাই মিলে ক্রয় করা অতি উত্তম। আর যদি কেউ একা একটি গরু কোরবানির উদ্দেশ্যে ক্রয় করে এবং মনে মনে এই ইচ্ছা পোষণ করে যে, পরে আরো লোক শরিক করে তাদের সাথে মিলে একত্রে কোরবানি করবে, তবে তাও জায়েজ আছে। কিন্তু যদি গরু ক্রয় করার সময় অন্যকে শরিক করার ইচ্ছা না থাকে, একাই কোরবানি করার নিয়ত থাকে, পরে অন্যকে শরিক করার ইচ্ছা করে, তাহলে ক্রেতা গরিব হলে অন্যকে শরিক করতে পারবে না। আর যদি ক্রেতা ধনী হয়, তাহলে অন্যকে শরিক করতে পারবে (ফতোয়া হিন্দিয়া, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০৪)
কোরবানির পশু হারিয়ে গেলে : কোরবানির পশু হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে এর পরিবর্তে আরেকটি ক্রয় করার পর তিন দিনের মধ্যে আগেরটিও পাওয়া গেলে গরিবের উভয়টি জবাই করতে হবে। আর ধনীর যেকোনো একটি জবাই করলেই চলবে (আস আশবা ওয়ান নাজাইর, প্রথম খণ্ড, হেদায়া, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৩২)।
গোশত বণ্টন : যদি সাতজনে শরিক হয়ে একটি গরু কোরবানি করে, তবে গোশত অনুমান করে বণ্টন করবে না; বরং পাল্লা দিয়ে ওজন করে বণ্টন করবে। অবশ্য পা, মাথা, হাঁড় ইত্যাদি অনুমান করে বণ্টন করা বৈধ (দুররুল মুখতার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩২)।
পশুর বয়স : উট পাঁচ বছর, গরু ও মহিষ দুই বছরের হওয়া আবশ্যক। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এক বছর হওয়া আবশ্যক। এর কম হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তবে ছয় মাসের দুম্বা যদি মোটাতাজা হয় এবং এক বছরের দুম্বার মতো দেখায়, তাহলে কোরবানি শুদ্ধ হবে (দুররুল মুখতার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩২)।
যেসব ত্রুটিপূর্ণ পশু কোরবানি করা বৈধ নয় : কোরবানির পশু ত্রুটিম্ক্তু, দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় হওয়া আবশ্যক। যে পশুর দু’টি চোখ অন্ধ বা একটি চোখ পূর্ণ অন্ধ বা একটি চোখের এক-তৃতীয়াংশ বা আরো বেশি দৃষ্টি নষ্ট, সে পশু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তদ্রƒপ যে পশুর একটি কানের বা লেজের এক-তৃতীয়াংশ বা তদপেক্ষা বেশি কেটে গেছে সে পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। যে পশু এমন খোঁড়া যে, মাত্র তিন পায়ের উপর ভর দিয়ে চলে, একটি পা মাটিতে লাগাতেই পারে না অথবা মাটিতে লাগাতে পারে কিন্তু তার উপর ভর দিতে পারে না, এরূপ পশু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। খোঁড়া হলেও যদি পায়ের উপর ভর দিয়ে চলতে পারে তবে কোরবানি বৈধ হবে। পশু যদি এমন কৃশ ও দুর্বল যে, তার হাড়ের মগজও শুকিয়ে গেছে, তবে তা দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। যে পশুর একটি দাঁতও নেই, তা দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। যদি যতগুলো দাঁত পড়ে গেছে তা অপেক্ষা অধিক সংখ্যক দাঁত বাকি থাকে, তাহলে কোরবানি শুদ্ধ হবে। যে পশুর জন্ম থেকে কান নেই, তা দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। কান আছে কিন্তু ছোট, তা দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে। যে পশুর শিং উঠেনি বা উঠার পর ভেঙে গেছে, তা দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে। তবে মূল থেকে ভেঙে গেলে তা দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ নয়। অনুরূপ যে পশু গায়ে বা কাঁধে দাদ বা খুজলি হয়েছে তা কোরবানি করা জায়েজ। তবে যদি খুজলির কারণে পশু বেশি কৃশ হয়ে যায়, তবে কোরবানি জায়েজ হবে না (আলমগিরি, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪১৮, দুররুল মুখতার দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩৬, হেদায়া, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৩২)।
পশু ক্রয় করার পর অসুস্থ হলে : ত্রুটিমুক্ত পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, যে কারণে কোরবানি সহিহ হয় না, তবে ধনীর জন্য অন্য একটি পশু ক্রয় করে কোরবানি করতে হবে, আর গরিব হলে ত্রুটিপূর্ণ পশুই কোরবানি করতে হবে (দুররুল মুখতার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩৩)।
গোশত দান করার বিধান : কোরবানি গোশত নিজে খাওয়া, পরিবারবর্গকে খাওয়ানো, আত্মীয়স্বজনকে হাদিয়া দেয়া এবং গরিব-মিসকিনদের দান করা- সবই জায়েজ। এমনটি অমুসলিমকেও দেয়া জায়েজ। গরিব-মিসকিনকে এক-তৃতীয়াংশ দান করা মুস্তাহাব। তবে এক-তৃতীয়াংশ দান করার কথা হাদিসে নেই। ফলে পরিবারের সদস্য বেশি থাকলে না দিলেও অসুবিধা নেই (হেদায়া, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৩৫)।
চামড়ার বিধান : কোরবানির পশুর চামড়া গরিব-মিসকিনকে দান করে দিতে হবে। যদি বিক্রি করা হয়, তবে ওই টাকা গরিব-মিসকিনকে দান করে দিতে হবে। ইচ্ছা করলে নিজেও চামড়া শুকিয়ে ব্যবহার করতে পারে (দুররুল মুখতার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩৪)।
পারিশ্রমিক হিসেবে গোশত দান : কোরবানির পশু জবাইকারী ও গোশত প্রস্তুতকারীর পারিশ্রমিক গোশত দিয়ে দেয়া যাবে না; বরং পৃথকভাবে দিতে হবে, অন্যথায় কোরবানি হবে না (প্রাগুক্ত)।
গরিবের কোরবানির বিধান : গরিবের উপর কোরবানি ওয়াজিব নয় কিন্তু যদি সে কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে, তবে তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যায় (প্রাগুক্ত)।
নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানি না করতে পারলে কী করবে : কারো উপর কোরবানি ওয়াজিব ছিল কিন্তু কোনো কারণে তিন দিনের মধ্যে কোরবানি করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে সে একটি বকরি বা ভেড়ার মূল্য দান করে দেবে। আর যদি বকরি বা ভেড়া ক্রয় করে থাকে, তবে তা দান করে দেবে (শামি, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৮০)।
কোরবানির মান্নত করলে তার বিধান : যদি কেউ কোরবানি করার মান্নত করে এবং তার মান্নতও পূর্ণ হয়, তবে মান্নতকারী ধনী হোক বা গরিব তার কোরবানি করা ওয়াজিব। এ কোরবানির গোশত সে খেতে পারবে না, দান করে দিতে হবে (প্রাগুক্ত কিতাব, পৃষ্ঠা-২৮৬)।
মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানির বিধান : স্বেচ্ছায় মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি দেয়া জায়েজ। এ গোশত নিজে খেতে পারে অন্যকেও দান করতে পারে। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি কোরবানির ওসিয়ত করে যায় এবং মৃত্যুর পর তার নামে কোরবানি করা হয়, তবে এ কোরবানির গোশত খাওয়া যাবে না; বরং দান করে দিতে হবে (শামি, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২২৮)।
অনুমতি ছাড়া কোরবানি করা : একজন আরেকজনের পশু অনুমতি ছাড়া জবাই করা জায়েজ নেই। যদি অনুমতি ছাড়া জবাই করার পর মালিক সন্তুষ্ট থাকে এবং জরিমানা সাব্যস্ত না করে, তবে কোরবানি হয়ে যাবে (আল-আশবা ওয়ান নাজাইর, প্রথম খণ্ড)।
কোরবানির সাথে আকিকা করা : কোরবানির সাথে আকিকা করা একটি বিতর্কিত মাসয়ালা। হানাফি মাজহাবের অধিকাংশ ইমামের মতে, কোরবানির সাথে আকিকা করা জায়েজ। কিছু হানাফি ইমাম এবং অন্যান্য মাজহাবের ইমামের মতে- কোরবানি ও আকিকা যেহেতু ভিন্ন দু’টি ইবাদত সেহেতু দু’টি ইবাদতকে একত্র করা বৈধ নয়। এ ব্যাপারে বিজ্ঞ ফিকহবিদদের অভিমত হলো- আকিকা করার বিধান জন্মের সপ্তম দিন। সুতরাং যারা সামর্থ্যবান তাদের কোরবানির সাথে আকিকা সংযোগ না করাই উত্তম।
গাভীন পশুর কোরবানির বিধান : গাভীন পশু কোরবানি করা জায়েজ। তবে না করাই উচিত। জবাই করার পর যদি বাচ্চা জীবিত থাকে, তাহলে বাচ্চাকেও জবাই করতে হবে। এ বাচ্চার গোশত ইচ্ছা করলে ভক্ষণও করতে পারে (দুররুল মুখতার, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৮)
কোরবানির দিনগুলোতে হাঁস, মুরগি জবাই করা : কোরবানির দিবসগুলোতে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি জবাই করা জায়েজ। কেননা, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
কোরবানির পশুর প্রদর্শনী করা : কোরবানির পশু মালা ও রঙিন কাপড় পরিয়ে প্রদর্শনী করা এবং সেলফি তোলে পাড়া-মহল্লায় তা নিয়ে ঘুরাফেরা করা রিয়ার শামিল, ফলে তা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
ধারকর্জ করে কোরবানি করা : যদি কোরবানিদাতা সামর্থ্যবান হয় কিন্তু এ মুহূর্তে তার নগদ টাকা না থাকে এবং কাজ পরিশোধ করার ইচ্ছে থাকে, তাহলে তার জন্য ধারকর্জ করে কোরবানি করা জায়েজ। কিন্তু গরিবের জন্য জায়েজ নেই।
কোরবানি করার অস্ত্র : জবাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে করা কর্তব্য। মহানবী সা: উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রা:-কে কোরবানি করার আগে বলেছেন, ‘আমাকে একটি ছুরি দাও, তারপর বলেন, পাথরের ওপরে একে ধার করো’ (মুসলিম)।
চামড়া ছাড়ানো : পশু শীতল হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো এবং পায়ের রগ কাটা অনুচিত। তাড়াহুড়া না করে পশু শীতল হলে চামড়া ছাড়ানো উচিত।
কোরবানিদাতাদের কর্তব্য : যারা কোরবানি করবেন, তাদের জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে কোরবানি করার আগ পর্যন্ত চুল, নখ, ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। রাসূল সা: বলেছেন, ‘যখন জিলহজ মাস শুরু হবে তখন যারা কোরবানি করার আশা পোষণ করে, তারা যেন নিজের চুল বা শরীরের কোনো অংশ স্পর্শ না করে তথা না কাটে’ অপর বর্ণনা মতে- নিজের চুল ও নখ না কাটে (মুসলিম)।
৩ দিনের অধিক গোশত খাওয়া : কোরবানির গোশত তিন দিনের অধিক সময় ধরে খাওয়া বা শুকানো অথবা জমা রাখা সবই জায়েজ।
দান করা পশু দিয়ে কোরবানি : কেউ দান করলে সে পশু কোরবানি করা যাবে। যেমন- হজরত উকবা ইবনে আমের রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদা মহানবী সা: তাকে কতগুলো ছাগল দিলেন। তিনি সাহাবিদের মধ্যে এগুলো কোরবানির পশু হিসেবে বণ্টন করে দেন। অতঃপর বণ্টন শেষে এক বছরের একটি বাচ্চা অবশিষ্ট রয়ে যায়। তিনি রাসূল সা:-কে তা বলেন। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, তা দিয়ে তুমি নিজে কোরবানি করো- অপর বর্ণনায় রয়েছে, (উকবা বলেন)। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সা:! আমার ভাগে একটি ছয় মাসের বাচ্চা পড়েছে। রাসূল সা: বললেন, তুমি তা দিয়েই কোরবানি করো (বুখারি ও মুসলিম)। কারো শ্বশুরবাড়ি থেকে পশু হাদিয়া দিলে একে হাদিয়া হিসেবেই গ্রহণ করা উচিত, কোরবানি হিসেবে নয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে ঈদে গরু, ছাগল ইত্যাদি পাওয়ার আশা করা জায়েজ নেই।
ঈদের দিনের প্রথম আহার : ঈদের দিন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে জিয়াফতের দিন। আর মুমিনগণ হলেন আল্লাহর মেহমান। তাই মেহমানের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা উচিত। তাই কোরবানির গোশত দিয়ে প্রথম আহার করা মুস্তাহাব।
লেখক : প্রধান ফকিহ, আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, ফেনী



