বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় দেশের জ্বালানি সেক্টরে অস্থিরতা দেখা দিলেও চট্টগ্রাম অভিমুখী এলএনজিবাহী চার জাহাজ ওই প্রণালী অতিক্রম করেছে। ফলে গ্যাস সঙ্কট পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কিছুটা হলেও আপাত সুরাহা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে আসা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) দু’টি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। অন্য দু’টিও চট্টগ্রামের পথে রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানিয়েছে, কাতার থেকে এক লাখ ২৬ হাজার ৪৫৮ মে.টন এলএনজি নিয়ে ফ্রান্সের পতাকাবাহী ‘আল জোর’ ও গ্রিসের পতাকাবাহী ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দু’টি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আল জোর বহন করছে ৬৩ হাজার ৩৮৩ মে.টন এবং আল জাসাসিয়া বহন করছে ৬৩ হাজার ৭৫ মে.টন আগামীকাল সোমবার বাহামারা পতাবাহী ‘লুসাইল’ এবং আগামী বুধবার লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘আল গালায়েল’ নামে আরো দু’টি জাহাজ বন্দরের পানিসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই চার জাহাজে এলএনজি রয়েছে প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার টন। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সঙ্ঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে যায় এসব জাহাজ। এ ছাড়া এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ আজ রোববার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এলএনজিবাহী জাহাজগুলোর লোকাল এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম মো: নুরুল আলম বাহার নয়া দিগন্তকে বলেন, চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। এর মধ্যে ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছে যাওয়া জাহাজ দু’টি হরমুজ প্রণালীতে রেসট্রিকশন আরোপের আগেই প্রণালী অতিক্রম করে। চট্টগ্রাম বন্দরের পথে থাকা অপর দু’টি জাহাজ রেসট্রিকশন আরোপের পরেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে তিনি জানান। তবে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে ছেড়ে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহি অপর একটি এলএনজিবোঝাই ট্যাংকার ‘লেবরাথাহ’ এখনো হরমুজ প্রণালীর ভেতরে রয়েছে। জাহাজটিতে এলএনজিবোঝাই করা হয়েছে এবং এটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। তবে পরবর্তী চালানগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতি মাসে এ ধরনের ৮ থেকে ১০টি এলএনজিবোঝাই জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে বলেও তিনি জানান।
যুদ্ধ শুরুর নিকবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী উল্লিখিত জাহাজগুলোসহ মোট ১৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে জানিয়ে সূত্র বলছে- এর মধ্যে এলএনজিবোঝাই জাহাজ ছাড়াও দু’টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং ৯টি সিমেন্ট ক্লিংকারবোঝাই জাহাজ রয়েছে। হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে আসা জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে বলেও সূত্র জানায়।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রফতানি হয়।


