আরটি
যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫-এর কার্যকারিতা ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞ ও ‘মিলিটারি রাশিয়া’ প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা দিমিত্রি কোর্নেভ এক নিবন্ধে দাবি করেন, আকাশসীমায় একচ্ছত্র আধিপত্য অর্জনের লক্ষ্যে নির্মিত ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই সামরিক ব্যবস্থাটি ধারাবাহিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত দৌড় নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ২০০টিরও বেশি ইউনিট মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এটি পঞ্চম প্রজন্মের শতভাগ মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ বলে মনে করছেন তিনি।
এফ-৩৫-এর দক্ষতা নিয়ে অসন্তোষের ইতিহাস পুরনো। ২০১৫ সালের জুনে মার্কিন এক পরীক্ষামূলক চালকের গোপন প্রতিবেদন ফাঁস হলে জানা যায়, আকাশযুদ্ধের এক মহড়ায় বহু পুরনো চতুর্থ প্রজন্মের এফ-১৬ডি বিমানের কাছে হেরে যায় নতুন মডেলের এই এফ-৩৫। তবে সে সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দেয় যে, পরীক্ষাধীন বিমানটি ছিল একটি প্রাথমিক রূপ, যাতে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র পরিচালনা ব্যবস্থা এবং উচ্চ চাপ সহ্য করার ক্ষমতা ছিল না। পরবর্তীতে আধুনিক সফটওয়্যার যুক্ত উন্নত সংস্করণগুলো দূরপাল্লার মহড়ায় এফ-১৬-কে হারাতে পারলেও তা সম্ভব হয়েছিল রাডার ফাঁকি দেয়ার প্রযুক্তির কারণে, আমনে-সামনে লড়াইয়ের দক্ষতার জন্য নয়।
মার্কিন কৌশলে স্টিলথ প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বিমানের বিশেষ গঠন এবং তরঙ্গ শোষক প্রলেপের মাধ্যমে রাডারে অতি ক্ষুদ্র সঙ্কেত তৈরি করা, যাতে প্রতিপক্ষের নজরের বাইরে থেকে আক্রমণ চালানো যায়। এর পাশাপাশি এফ-৩৫-এর দ্বিতীয় বড় সুবিধা হলো এর নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক যুদ্ধ চালনা ক্ষমতা, যার মাধ্যমে অন্যান্য যুদ্ধবিমান ও ড্রোন বহরকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তবে বিমানটির অন্যান্য প্রযুক্তিগত সীমা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মানুযায়ী পঞ্চম প্রজন্মের বিমান আফটারবার্নার ছাড়া দীর্ঘক্ষণ শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম হওয়ার কথা থাকলেও, এফ-৩৫বি ও এফ-৩৫সি সংস্করণ ম্যাক ১.২ গতির ওপরে বেশিক্ষণ টিকতে পারে না। অতিরিক্ত গতিতে চললে এর লেজের অংশ ও তাপীয় আস্তরণ ক্ষতির মুখে পড়ে। এমনকি এফ-৩৫এ সংস্করণটিও নিরবচ্ছিন্ন অতিরিক্ত গতি বজায় রাখতে সমস্যার মুখে পড়ে। উপরন্তু প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ক্ষয়, অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়া এবং খুচরা যন্ত্রাংশের অপ্রতুলতা সামরিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। সীমিত সক্ষমতার পাশাপাশি এর চরম বাজেট চাপ সৃষ্টি করছে।



