বিএনপি প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত না করায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিরোধ বাড়ছে

Printed Edition

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ

বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত না করে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার কারণে সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আন্তঃকোন্দল বেড়েছে ও নেতাকর্মীরা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি তৃণমূলের। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ করায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একে অপরের প্রতি হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। যার ফলে তাদের কর্মী-সমর্থকরা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে।

এমনকি দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নিহত এবং আহত হয়।

সর্বশেষ গত রোববার (৯ নভেম্বর) কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম কর্নেল (অব:) এম আনোয়ার-উল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার জন্য তিনি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকা বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো: আবুল কালামের অনুসারীদের দায়ী করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক প্রার্থীর সাথে কথা হলে তারা জানান, বিএনপি মহাসচিব প্রার্থী ঘোষণার দিন বলেছিলেন এটাই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নয়। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন পাওয়ার আশা রয়ে গেছে। এরপর থেকেই তালিকায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীকে সহযোগিতার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীর চরিত্র হননের চেষ্টায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন আগে মাদারীপুর-৩ সংসদীয় আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের সমর্থকদের দাবি তার প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে বিতর্কিত করার জন্য এ ষড়যন্ত্র করছে।

এদিকে বগুড়া-১ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসানুল তৈয়ব জাকির ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তবে আহসানুল তৈয়ব জাকির নয়া দিগন্তের কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান দীর্ঘ সময় দলের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় তার নাম আসার পরে প্রতিপক্ষের দ্বারা নানা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের। এমনকি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকদের কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ারও অভিযোগ তার।

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত হওয়ার ব্যাপারে সব প্রার্থীই আশাবাদী। ফলে একজনের প্রোগ্রামে অংশ নিলে অন্যজন কটু দৃষ্টিতে দেখেন। তাই দলীয় গ্রুপিং বন্ধে মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা উচিৎ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি মনে করি বিএনপি প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহিংসতা থাকবে না। প্রার্থী কনফার্ম হয়ে গেলে মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার যে আশা তা শেষ হয়ে যাবে। ফলে সবাই দলের প্রার্থীর জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বাধ্য হবে।

এ বিষয় জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে অনেক ত্যাগী ও যোগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় মনোনয়নের জন্য প্রতিযোগিতাও বেশি। প্রতিবারই মনোনয়ন ঘোষণার পর দু-একদিন ক্ষোভ থেকে এ রকম টুকটাক ঘটনা ঘটে। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। তফসিল ঘোষণার পর সব ঠিক হয়ে যাবে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এই দলে দলীয় মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার রয়েছে। তবে সেটা দলীয় ফোরামে প্রকাশ করাই উত্তম।

তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরই শৃঙ্খলার ব্যাপারে কঠোর। আশা করি যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে প্রত্যেকে দলের শৃঙ্খলার দিকে লক্ষ রাখবেন। দলের শৃঙ্খলা নষ্ট হয় বা দলের বদনাম হয় এমন কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।