হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ ছড়িয়ে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন অপতৎপরতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষিবিভাগ নজরদারি বাড়ায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসী মাসনাদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত হোসেনপুর পৌরসদরের পশ্চিম পট্টির সততা বীজ ভাণ্ডার এবং গোবিন্দপুর চৌরাস্তা বাজারের বাবুল ট্রেডার্স ও মেসার্স আউয়াল ট্রেডার্সে অভিযান চালায়। জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার নার্গিস আক্তারও এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানমালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে গেলেও এসব প্রতিষ্ঠানে মজুদ রাখা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল বীজ ও কৃষিপণ্য উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত নকল বীজ জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়। সততা বীজ ভাণ্ডারে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ রাখার দায়ে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মালিককে সতর্ক করা হয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগেও জেলা সদরের নিউ আমানত বীজ ভাণ্ডারে অভিযান চালানো হলে হোসেনপুরের কয়েক ব্যবসায়ীর কাছে অবৈধ বীজ সরবরাহের প্রমাণ মিলেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তখনো আইনের আওতার বাইরে ছিলেন। এতে পুরো এলাকায় নকল বীজের ছড়াছড়ি বাড়তে থাকে, যার মারাত্মক প্রভাব পড়ে কৃষকদের ওপর।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নকল বীজ ও সার প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের বারবার প্রতারিত হতে হচ্ছে। নকল বীজ বপনের পর ফসল নষ্ট হয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এনায়েতুল ইসলাম জানান, হাটবাজারে নকল বীজ ঠেকাতে কৃষিবিভাগ মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে এবং কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহজাহান কবির বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ বলেন, নকল বীজ ও অবৈধ কৃষিপণ্য বিক্রি রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



