জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঘোষণা

করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়নি, আর হবেও না

Printed Edition
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান : পিআইডি
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান : পিআইডি

বিশেষ সংবাদদাতা

  • ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে করিডোরের গুজব ছড়ানো হচ্ছে’
  • ‘আমি বাংলাদেশের নাগরিক, অন্য কোনো দেশের নই’

মিয়ানমারে করিডোর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি কারো সাথে এবং এটি নিয়ে কারো সাথে কোনো কথা হবেও না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আরাকানের যে অবস্থা তাতে করিডোরের কোনো প্রয়োজন নেই। করিডোর সৃষ্টি করে সেখানে কোনো ধরনের লোকজনের যাতায়াতের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন নেই। যে প্রয়োজনীয়তা আছে, সেটা হলো ত্রাণ পৌঁছে দেয়া।’ তিনি তার নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে বলেন, আমি একমাত্র বাংলাদেশের নাগরিক। অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকলে প্রমাণ করুন।

গতকাল বুধবার দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, ‘করিডোরের প্রচারণা বাংলাদেশ থেকে হয়নি। এটি প্রতিবেশী দেশের একটি মিডিয়া থেকে এসেছে। এমনকি তারা প্রচার করছে যে আমরা আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রক্সি যুদ্ধ করব। কিন্তু এগুলো সব অবাস্তব ও মিথ্যা। আমরা ভেবেছিলাম বুদ্ধিমানরা এসবের বিরুদ্ধে বলবে। সরকার সব কথা বলবে কেন।’

এ প্রসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘের সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশে একটি করিডোর দেয়ার যে গুজব তৈরি হয়েছে, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই করিডোর নিয়ে আমরা কারো সাথে কথা বলিনি। যেহেতু আরাকানে ত্রাণ ও অন্যান্য উপকরণ পাঠানো যাচ্ছে না, তাই জাতিসঙ্ঘ সেখানে তার বিভিন্ন সহযোগীদের মাধ্যমে রাখাইনে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে চায়। জাতিসঙ্ঘকে জিজ্ঞেস করেন, আমরা করিডোর নিয়ে কারো সাথে কথা বলিনি, বলব না।’ করিডোরের প্রয়োজনীয়তা নেই। যেটা প্রয়োজন আছে সেটা হচ্ছে ত্রাণসাহায্য পৌঁছে দেয়া।’

খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই ব্যাপারটা নিয়ে বহু কিছু বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু সরকার না দেশের সব অংশীদারদের নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কোনো কিছুই এখনো বিবেচনার পর্যায়ে আসেনি। বিবেচনার পর্যায়ে এলে তখন আমরা সবার সাথে কথা বলব।’ তিনি বলেন, ‘করিডোর হলে সেটার পুরো কন্ট্রোল থাকবে জাতিসঙ্ঘের। আমরা চেষ্টা করব বর্ডার কন্ট্রোলের। কনফ্লিক্ট এড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। মিয়ানমার আর্মি এয়ার স্ট্রাইক বন্ধ না করলে সেটা বিবেচনার সুযোগ নেই।’

আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সম্মেলন নিয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা এই ইস্যু তুলেছিলেন। একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতে সোৎসাহে সাড়া দিয়েছে। জাতিসঙ্ঘ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মোট ১০৬টি দেশ এটি স্পন্সর করবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘের সচিবালয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, ‘মিয়ানমার ইস্যুতে সেনাবাহিনীর সাথে আমাদের কোনো মতপার্থক্য নেই। এই ব্যাপারে আমরা সবাই এক সমতলে। সেনাপ্রধানের সাথে আমার কথা হয়েছে। ফরেন অফিসের সাথে কো-অর্ডিনেশন নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। তিনি আরো বলেন, ‘আমেরিকার চাপের মধ্যে আমরা নেই। আমরা কারো চাপে নেই। আমরা আমেরিকা, চায়না সবার সাথেই কথা বলছি। যে চাপ নেই সেটার কোনো ভার নেই।’

খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই। আমরা চাই প্রত্যাবাসন। আজকে তারা ফেরত গেলেন, আবার হত্যার শিকার হয়ে চলে এলো সেটা আমরা মেনে নেব না। আমরা চাই টেকসই প্রত্যাবাসন।’

তিনি বলেন, ‘আরাকানের ৯০ ভাগ এলাকা দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি। তাই সমান্তরালে আলোচনা চালু করেছি। আমাদের আরাকান আর্মি স্পষ্টভাবে বলেছে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া আমাদের একটা প্রিন্সিপাল পজিশন। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিবে। আরাকানের অবস্থা যত দিন অস্থির থাকবে তত দিন প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা বলব না। প্রত্যাবসনের কোনো পূর্বাবস্থা সৃষ্টি হয়নি সেখানে।’ তিনি বলেন, ‘আজ অব্দি প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে আছে। এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এই ইস্যুকে আন্তর্জাতিক এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। গত সাত বছর এই ইস্যু অপসৃত ও পেছনে পড়ে গিয়েছিল।’

বিগত সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরফ থেকে এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কিনা। ইস্যুটা তো মরেই গিয়েছিল। আমাদের তরফ থেকেই কোনো উদ্যোগ ছিল না।’

করিডোর নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে খলিলুর রহমান বলেন, ‘উনি যেটা বলেছিলেন করিডোর শব্দ ব্যবহার করেই কারেক্ট করেছিলেন, সেটা স্লিপ অব টাঙ ছিল।’

নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে ব্যাপক খাদ্যাভাব ও ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে। ইউএনডিপির রিপোর্ট অনুসারে সেখানে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে আরো রোহিঙ্গা এ দেশে চলে আসতে পারে। আমরা আমাদের ভার ধারণের সীমার বাইরে চলে এসেছি। অতিরিক্ত শরণার্থী আর গ্রহণ করা সম্ভব নয়, এটা জানিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সংখ্যা কত এটা বায়োমেট্রিক করে থাকে ইউএনএইচসিআর। তাদের সাথে আমাদের একটা এমওইউ ছিল। রোহিঙ্গাদের হাতের ও মুখের ছবি তাদের সংরক্ষণে ছিল। আগের সরকার সেই তথ্যই চায়নি। আমরা এখন সেই তথ্য নিয়ে আমাদের ডাটাবেজে মেলাব। এতেই বোঝা যাবে কত রোহিঙ্গা পাসপোর্ট পেয়েছে, বাইরে গেছে।’

নিজের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমার একটাই সিটিজেনশিপ, বাংলাদেশী। বাংলাদেশ ছাড়া আমার অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই। আমি জাস্ট আমেরিকায় ছিলাম, বাংলাদেশ ছাড়া কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই। আরেক দেশে অবস্থান করার কারণে সে দেশের নাগরিকত্বের কথা বললে তো তারেক রহমানের ওপরেও প্রশ্ন চলে আসবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেই, থাকলে আপনারা প্রমাণ করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত কয়েকটি প্রশ্ন ও উত্তর-

১. রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থান কী?

উত্তর : রাখাইন রাজ্যে তীব্র মানবিক সঙ্কটের কারণে সেখানে মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। ইউএনডিপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেখানে আসন্ন দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ আশঙ্কা করছে যে, এমন পরিস্থিতি রাখাইন থেকে আরো মানুষকে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করবে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জাতিসঙ্ঘ এবং বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে শুরু করে। যেহেতু সঙ্ঘাতের কারণে সাহায্য সরবরাহের অন্যান্য সব পথ বর্তমানে অকার্যকর, তাই বাংলাদেশই এখন একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প। প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা হয়েছিল যে জাতিসঙ্ঘ তার চ্যানেলের মাধ্যমে রাখাইনে সহায়তা বিতরণের ব্যবস্থা করবে এবং মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশ লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মনে করে যে রাখাইনে সাহায্য প্রদান রাজ্যটিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করবে।

রাখাইনে সাহায্য প্রদানের ব্যাপারে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি কারণ এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতি ও সহায়তা প্রদানের জন্য বেশকিছু পূর্বশর্ত পূরণের প্রয়োজন যা বিশ্বের সবখানেই মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে একইভাবে পূরণযোগ্য।

এর মধ্যে রয়েছে, সহায়তা প্রদানকারী এবং গ্রহীতাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার, সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য না করা, সহায়তাকে সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার না করা এবং সশস্ত্র কার্যকলাপ স্থগিত রাখা।

২. আরাকান বাহিনীর সাথে যোগাযোগের কারণ কী এবং সঙ্কট মোকাবেলায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সাথে যোগাযোগ হয়েছে কি না?

উত্তর : আরাকান সশস্ত্রবাহিনী যখন মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অংশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তখন বাংলাদেশ সরকার তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। নিজ সীমান্ত রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ রাখা বাংলাদেশের কর্তব্য। এ কারণেই বাংলাদেশ আরাকান সেনাবাহিনীর সাথে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশ সরকার রাখাইনে মানবিক সহায়তা প্রদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এবং আরাকানের শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কাঠামোর সকল স্তরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার স্বার্থে আরাকান বাহিনীর সাথে যোগাযোগ রেখেছে।

বাস্তবিক প্রয়োজনেই আরাকান বাহিনীর সাথে বাংলাদেশের এই যোগাযোগ। একইসাথে, মিয়ানমার সরকারের সাথেও যোগাযোগ বজায় রাখছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সঙ্কট টেকসইভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৩. বাংলাদেশী কর্মকর্তারা সম্প্রতি বলেছেন যে জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তার প্রস্তাবে বাংলাদেশের সম্মতির জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। সেই শর্তগুলো কী কী এবং এই বিষয়ে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না?

উত্তর : প্রথম কথা হলো, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহায়তা প্রদানের বিষয়ে একমত হতে হবে। পাশাপাশি আরাকান বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হবে যে সহায়তা প্রদানকারী ও গ্রহীতাদের প্রবেশাধিকার যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সহায়তাকে সামরিক উদ্দেশে যেন ব্যবহার না করা হয় এবং কোনো সশস্ত্র কার্যকলাপ যেন না ঘটে।

আরাকান বাহিনী রাখাইনের শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কাঠামোর সকল স্তরে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করে রাখাইনে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই প্রতিশ্রুতির প্রতি তাদের অবিচল থাকতে হবে। তা না হলে এটিকে সারা বিশ্বে জাতিগত নিধন হিসেবে দেখা হবে, যা বাংলাদেশ মেনে নেবে না। আমরা এ বিষয়ে আরাকান বাহিনীর প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।

৪. মানবিক সহায়তা প্রদানে নিরাপত্তা ঝুঁকি কী কী?

উত্তর : সঙ্ঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা যিনি প্রদান করেন এবং যিনি গ্রহণ করেন উভয়ের জন্যই নিরাপত্তাঝুঁকি আছে। ল্যান্ডমাইন ও আইইডির মতো বিস্ফোরক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য হুমকি। সহায়তা প্রদানের আগে এই বিষয়গুলো সমাধান করা প্রয়োজন।

৫. রাখাইনে জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা সম্পর্কে আঞ্চলিক দেশগুলোর অবস্থান কী?

উত্তর : আসন্ন মানবিক বিপর্যয় থেকে মানুষের জীবন বাঁচানো বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। এই সঙ্কট মোকাবেলায় সবাইকে একযোগে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাখাইনে স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্থিতিশীল না হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা একেবারেই কম।

৬. আমরা সাম্প্রতিককালে আরো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আসতে দেখছি। যদি এটি অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশ কিভাবে এটি মোকাবেলা করার পরিকল্পনা করছে?

উত্তর: বাংলাদেশের পক্ষে আরো বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব না। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরাকান বাহিনী এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র সঙ্ঘাতের সময় রাখাইন থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপরেও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যদিও সেটি সংখ্যায় কম।

আরো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ না করে সেটি ঠেকাতে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ সরকার আরাকান বাহিনীকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর আর কোনো সহিংসতা, বৈষম্য ও বাস্তুচ্যুতি যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আরাকান বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনসহ সব আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে। গোটা বিশ্ব তাদের কার্যক্রম দেখছে। বাংলাদেশ আরাকান বাহিনীর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে কি না তা এই অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বের ওপর নির্ভর করবে।