নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সাভারে আমিনবাজারে এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্য দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভারের আমিনবাজার এলাকার বড়দেশীর হাজীনগরের জনৈক ইউসুফ আলীর ভাড়া বাসায় এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা শওকাত হোসেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত নারীর নাম শারমিন আক্তার লিজা (৩৯)।
এজহারসূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে শারমিন আক্তারের সাথে স্বামী মাইনুদ্দিন আহমেদ জনির বিচ্ছেদ হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। শারমিন আমিনবাজরের বড়দেশী গ্রামে ভাড়া থেকে ঢাকার বসুন্ধরা মার্কেটে চাকরি করে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে শারমিনের মেয়ে তার মাকে একা বাসায় রেখে তার বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যায়। সন্ধ্যায় বান্ধবীর বাসা থেকে এসে দেখেন খাটের মধ্যে তার মার লাশ পড়ে আছে। লাশ দেখে মেয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা শওকাত হোসেন বাদি হয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে মামলা করেন।
সাভার মডেল থানা ও আমিনবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) জাকির আল-হাসান বলেন, ধর্ষণ শেষে নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখনো তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
রাঙ্গুনিয়ায় ধর্ষণ ও ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতার
রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি ও তরুণীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত আসামির নাম মাহবুব প্রকাশ মাল্লহ (৩০)। সে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ মে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার জয়নগর এলাকায় এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর পরিবার ছাগল পালন করে। ঘটনার দিন বিকেলে ছাগলগুলো বাড়িতে ফিরে না আসায় সেগুলো আনতে বের হন ওই তরুণী। এ সময় তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ভুক্তভোগীর পিতা বাদি হয়ে গত ৩০ মে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
এ দিকে গত ৫ জুন পদুয়া জয়নগর গ্রামে শিক্ষক মো: আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদল প্রবেশ করে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও আট ভরি স্বর্ণ লুট করে। ডাকাতদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে গৃহকর্তাসহ তিনজনকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় ডাকাতি মামলা করা হয়।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ধর্ষণ ও ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাহাবুব আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটহাজারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে একইদিন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। গতকাল শুক্রবার ধৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইটনা (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কোহিনূর (১৫) নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার এক আসামি জিজ্ঞাসাবাদে কোহিনূরকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কোহিনূর মিঠামইন উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলেজ মোড় হাটির ফজলু মিয়ার মেয়ে এবং তমিজা খাতুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি কোহিনূর। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মিঠামইন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ভাই শুভ জানান, ২৯ জুন সন্ধ্যায় হামিদপল্লী এলাকায় একটি অজ্ঞাত তরুণীর লাশ ভাসতে দেখার খবর পান তারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই লাশটি স্রোতে ভেসে যায় বলে পরিবারের দাবি। তার ভাষ্য, লাশটির পরনের পোশাক দেখে তিনি সেটিকে তার বোন কোহিনূরের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনার জড়িত থাকায় মো: হৃদয় (৩০) ও তার সহযোগী ইমরান (২৫)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, গ্রেফতার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কোহিনূরকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় আরো কয়েকজন সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরো বলেন, পরিবারের দেয়া বর্ণনা, গ্রেফতার আসামির স্বীকারোক্তি এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভাসমান লাশটি কোহিনূরের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।



