সংসদ প্রতিবেদক
যুদ্ধ বিরতি ত্বরান্বিত করার স্বার্থে শান্তি চুক্তি সার করায় ইরানকে ধন্যবাদ এবং শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। সেই সাথে এ চুক্তি কার্যকর থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ইরান আগামী দিনগুলোতে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এবং ইরান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি এক সৌজন্য সাক্ষাতে এলে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূতের সাথে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মোলারস এবং মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার (দোভাষী) মাহফুজুল হক। বিরোধীদলীয় নেতার সাথে ছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিনিময়, স্বাস্থ্যসেবা এবং মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে ইরানি রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্য ও ডা: শফিকুর রহমানের বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি, আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজেরও প্রশংসা করা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ইরানের নাগরিকদের জন্য দুঃখ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। এই যুদ্ধে জানমালের ব্যাপক য় তিতেও তিনি শোক প্রকাশ করেন। জামায়াতের আমির এ সময় নিহত সবার মাগফিরাত কামনা করেন।
দু’পক্ষ এ সময় পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, তেহরান-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট, মেডিক্যাল টুরিজম নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল চালু করার প্রস্তাব দেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইরানের বিদ্যমান সুসম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইরানের আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন েেত্র পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান সরকারের সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।



