নিকলীর হাওরে অবৈধ জালের ছড়াছড়ি

দেশীয় মাছের আকাল

Printed Edition

আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ)

ভরা বর্ষায় পানিতে থইথই করছে কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওর। এ সময় হাওরের নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য থাকার কথা; কিন্তু এবার কাক্সিক্ষত মাছ মিলছে না। হাওরজুড়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট ও ঘন জালের অবাধ ব্যবহার, মা-মাছ ও ডিম নিধন এবং কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জেলেরা।

কুরশা, রোদার পুড্ডা, মহরকোণা, সাইটেরদার ও ছাতিরচর গ্রামের জেলেরা জানান, একসময় নতুন পানি আসার সাথে সাথে বেদুড়ি, রানি, খৈলশা, শোল, গজার, টেংরা, পাবদা, কৈ, বোয়াল, আইড়, মাগুর, পুঁটি, শিং, বাইম, চিংড়ি ও বাইলা মাছ প্রচুর পাওয়া যেত। এখন এসব মাছের প্রাচুর্যতা নেই বললেই চলে। জেলেরা জানান, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে হাওরে নতুন পানি আসার পর একশ্রেণীর জেলে মশারির মতো কারেন্ট ও একদোয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরেন। এতে ছোট মাছের পাশাপাশি মা-মাছ ও মাছের ডিমও নষ্ট হয়। রাতের বেলায় নৌকা নিয়ে এসব জাল ফেলে নির্বিচারে মাছ ধরার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া চৈত্র মাসে মেশিন দিয়ে হাওর, খাল-বিলের পানি শুকিয়ে মাছ ধরা এবং বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করে মাটির নিচের মাছ নিধনের অভিযোগ করছেন জেলেরা। তাদের মতে, এসব কারণে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। নিকলীর নতুনবাজার, সিংপুর, মরিচখালী, গোপদীঘি ও রোদার পুড্ডার মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, শ্রাবণ-ভাদ্রে দেশীয় মাছের সরবরাহ কম।

জেলেরা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে অভিযান হলেও তা কার্যকর নয়। তাদের দাবি, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে মা-মাছ ও ডিম রক্ষায় মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা হলে দেশীয় মাছ রক্ষা পাবে বলে মনে করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, ছোট মাছ ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মোহাইমেনুল ইসলাম বলেন, ছোট মাছ ধরা বন্ধে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে এবং নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে। এ বছর হাওরে এক মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলেদের সচেতন করতেও কার্যক্রম নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, নিকলীর হাওরে প্রতি বছর প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। এই মৎস্যসম্পদ জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।