আদালত প্রতিবেদক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দেয়া, গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, পিপার স্প্রে ব্যবহার এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গতকাল এ বিষয়ে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।
এর আগে, গত ৪ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আনোয়ার হোসেন। আদালত সেদিন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এজাহারভুক্ত ১৭ নম্বর আসামি জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত ১১১ জন আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২৫০-৩০০ ব্যক্তি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসার সামনে অবস্থান নেয়। তারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর এবং রাস্তায় অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। একই সাথে খালেদা জিয়া যাতে সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়া সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা বালুভর্তি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। একাধিকবার বের হওয়ার চেষ্টা করেও তিনি বাধার মুখে পড়েন। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়, এতে খালেদা জিয়াসহ তার সাথে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।
ওই ঘটনার প্রায় এক দশক পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন গুলশান থানায় এই মামলা করেন।



