এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সূর্যমুখী চাষ বেড়ে চলছে। ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো ও কৃষকদের লাভবান করার লক্ষ্য নিয়ে সরকারি প্রণোদনা সহায়তায় এবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চাষ হয়েছে সূর্যমুখী। মাঠজুড়ে ফুটে থাকা হাজারো ফুল যেমন বাড়িয়েছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, তেমনি নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো পরিচর্যায় ইতোমধ্যে অধিকাংশ গাছে ফুল ফুটেছে। ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মাঝে মধ্যেই পোকামাকড়ের আক্রমণ ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে গাছ ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। কৃষি কর্মকর্তারা তাই নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন।
চাষি সমীর চন্দ্র দাশ বলেন, কৃষি অফিসের প্রণোদনা পেয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ৪০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক সূর্যমুখী চাষ করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।
আরেক কৃষক জুয়েল দাশ বলেন, এই বছর আমি প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি। এখন মাঠভরা ফুল, মনে হচ্ছে ভালো ফলন পাবো। তেলের দামও ভালো, তাই এইবার লাভ বেশি হবে আশা করি।
কৃষক নুরুন নবী বলেন, আমাদের এলাকায় গত দুই বছর সূর্যমুখী চাষ করা হচ্ছে। সরকার থেকে যদি আমাদের সাহায্য করা হয় তাহলে আগামী বছর আমিও চাষ করবো।
উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের সূর্যমুখীচাষি মো: ইকবাল হোসেন জানান, এ বছরও তিনি দেড় একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন এবং ফলনও ভালো হয়েছে। আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে চাষ করবেন।
উপজেলার দক্ষিণ মঘাদিয়া এলাকার কৃষক মহিউদ্দিন জানান, দ্বিতীয়বারের মতো তিনি সূর্যমুখী চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সূর্যমুখী বীজ পেয়েছেন। চাষের জন্য সরকারিভাবে সারও দেয়া হয়।
উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল আহসান পাবেল বলেন, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইছাখালী ইউনিয়নে চলতি বছর ১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। এখানকার কৃষকদের প্রচেষ্টায় ও সরকারি সহায়তায় ক্রমান্বয়ে চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, সূর্যমুখীর তেলের পুষ্টিগুণ বেশি এবং বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। তাই কৃষকরা এবার ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছি। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি যাতে ফসল সংগ্রহ থেকে শুরু করে তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত কোনো সমস্যা না হয়। এবার উপজেলাজুড়ে ১৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। আগামীতে চাষের পরিধি আরো বাড়তে পারে বলে আশাবাদী তিনি।



