নিজস্ব প্রতিবেদন
দেশীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশী বিনিয়োগ টেনে আনা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যবসা-বাণিজ্যের সব আমলাতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক বাধা দূর করে দেশে শতভাগ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, নিয়মকানুন সহজ করা মুখের কথা নয়, তবে সরকার এটি বাস্তবায়নে ছাড় দেবে না। খুব শিগগিরই ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য একটি ওয়েবসাইট চালু করা হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারণে কেবল জ্বালানি কিনতে গিয়েই সরকারের অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার গচ্চা গেছে। এখন অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে, তবে এই সঙ্কট রাতারাতি মিটবে না। তিনি বলেন, শিল্প খাতের জন্য ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব চলবে না; শর্ত পূরণ করে কেবল যোগ্য ব্যবসায়ীরাই এই ঋণ পাবেন। পাশাপাশি ছোট উদ্যোক্তাদের মূলধন, প্রশিক্ষণ ও বাজার পাওয়ার সুবিধার্থে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু হচ্ছে। বিকল্প অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সৌরশক্তিতে বিনোয়োগে কর ছাড় দেয়ার কথাও জানান তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ অর্থনীতির মূল ধাক্কাগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছালেও বেসরকারি খাতে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে, যা নতুন বিনিয়োগের পথে বড় বাধা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতে খেলাপি ঋণ ২৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সঙ্কট কাটাতে তিনি জামানতমুক্ত ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ঋণ দেয়া এবং কম সুদে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব করেন।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। কর দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা যেভাবে হয়রানির শিকার হন, সেই সংস্কৃতি না বদলালে সংস্কারের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তিনি পুরো প্রক্রিয়া তদারকিতে একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের তাগিদ দেন।
আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, চড়া সুদহার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি আর জ্বালানির অনিশ্চয়তায় ব্যবসা চালানোর খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার খাতা-কলমের নীতি আর বাস্তবায়নের মধ্যকার বড় ফারাক দূর করার আহ্বান জানান।
অন্য দিকে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাজেট আর মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় না থাকায় মূল্যস্ফীতি কমানো যাচ্ছে না। সেই সাথে জনগণের দেয়া করের পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে না পৌঁছানোকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর তাগিদ দেন। এ ছাড়া ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সীমিন রহমান চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান পুরো রাজস্ব ব্যবস্থার দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পরামর্শ দেন।



