নয়া দিগন্ত ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া ঝিনাইদহে সহপাঠীর হাতে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থী ও দিনাজপুরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) নামের এক রাজনৈতিক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ১১ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়
এ দিকে বুলবুল হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সকাল ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহসড়কটি অবরোধ করেন তারা। এতে মহসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ খুন হন। ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সহসভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। এ মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান মুন্সী শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে পাকপাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ এলাকা থেকে মূল আসামি শেখ সিফাতসহ ১১ আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো জুমান (২৮), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো: সিয়াম (২৫), মোসা: মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) এবং সিজান ওরফে জিসান (২৬)।
গ্রেফতারকালে আসামিদের কাছ থেকে একটি ছ্যান দা, দু’টি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার পাইপ, একটি প্লাস্টিকের বাট যুক্ত স্টিলের ছুরি, চারটি এসএস-এর লোহার পাইপ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মূল আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে খাবার বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে কাউসার (২১) নামে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের মহিলা কলেজপাড়ার একটি ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাউসার, হরিণাকুণ্ড উপজেলার চটকাবাড়িয়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে ও ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। আটক লিখন খা সদর উপজেলার বাড়ীবাতান দাখিল মাদরাসার ছাত্র এবং গান্না ইউনিয়নের শোলমারি গ্রামের লিটুখার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায় কাউসার, লিখনসহ ছয় সাতজন শিক্ষার্থী একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। তারা সবাই রান্নাবান্না করে খাবার খেতেন ।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রাবাসে খাবার বণ্টন নিয়ে লিখনের সাথে কাউসারের বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নিলে লিখন রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে কাউসারের ঘাড়ে সজোরে কোপ মারেন। এতে তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং ঘটনাস্থলেই কাউসারের মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত লিখনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং কাউসারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে।
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানায়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে বটির কোপে অনিতা রানী (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আশুতোষ চন্দ্র শীল (৫৮) কে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের তর্পনঘাট (পালপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অনিতা রানী ওই গ্রামের আশুতোষ চন্দ্র শীলের স্ত্রী। আশুতোষ চন্দ্র শীল একই গ্রামের কালীপদ শীলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আশুতোষ চন্দ্র শীল তার স্ত্রী অনিতা রানীকে বটি দিয়ে কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক অনিতা রানীকে মৃত ঘোষণা করেন।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস জানান, অনিতা রানীর মৃত্যুর পর তার স্বামী আশুতোষ চন্দ্র শীলকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় আটক করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



