যাত্রীসেবা ও বহর সম্প্রসারণ শতভাগ অর্জন তৃতীয় টার্মিনালের অগ্রগতি ৫০ ভাগ

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

মনির হোসেন
Printed Edition

দেশের সব বিমানবন্দরে সন্তোষজনক ও হয়রানিমূলক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, মশার উৎপাত কমানো এবং আন্তর্জাতিক রুটে বহর সম্প্রসারণসহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক তৈরি করা ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতির বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল চালু করা ও যাত্রীদের ট্রলি সঙ্কট নিরসনের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন অগ্রগতির হার সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ। আবার কোনো ক্ষেত্রে অগ্রগতির হার ২০ ভাগও রয়েছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিমান পরিবহন খাত নিয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার (১৬ আগস্ট, ২০২৬) বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনের তুলনামূলক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এ চিত্র।

দেশের সব বিমানবন্দরে সন্তোষজনক ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মানসম্মত ও দায়িত্বশীল আচরণের লক্ষ্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার কর্তৃক মোট ৫টি আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ১৭০তম দিন (৬ আগস্ট পর্যন্ত অগ্রগতি) পর্যন্ত ১০০ ভাগ এবং ১৬ আগস্ট পর্যন্ত শতভাগ অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বাস্তবায়ন অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়, বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা, সব এয়ারলাইন্সের চেকইন ও বোর্ডিং গেটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মী, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং এজেন্টের কর্মী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং টার্মিনাল ভবনে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যবসা/সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য যাত্রী ও ভিজিটরদের প্রতি উত্তম আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাদের কর্মচারী/কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন এবং ভালো আচরণের জন্য তাদের আচরণ বিধি রয়েছে। মানসম্মত আচরণ ও দায়িত্বশীল আচরণের লক্ষ্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার কর্তৃক ৫টি আচরণ বিধি প্রণয়ন করা হয়।

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে (যদি থাকে) বলা হয়, বিমানবন্দরে সেবা প্রদানকারী ও সেবা গ্রহীতাদের আচরণ পরিবর্তন ও বিমানবন্দরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে। চ্যালেঞ্জ উত্তরণে পরিকল্পনার বিষয়ে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে কর্মরত সব সংস্থার কর্মী, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং, এভসেক, এপিবিএন, আনসার, কেবিন ক্রু এবং টার্মিনাল ভবনে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য যাত্রী ও ভিজিটরদের প্রতি অনুসরণী আচরণবিধি প্রণয়ন, ব্রিফিং সেশন আয়োজন এবং আচরণ অনুসরণে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। আর এগুলো বাস্তবায়ন করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

শুধু যাত্রীসেবা নিশ্চিত নয়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী হয়রানি নিরসনে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার জন্য ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সচেতনার জন্য ৯০টি সাইনেজ স্থাপন, ফেইস বুক পেইজ ও ওয়েবসাইট প্রভৃতির মাধ্যম প্রচারণা চালানো, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে ৩ স্তরে মনিটরিং করা, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশার প্রজনন শনাক্ত করার লক্ষ্য ৩ মাস পর পর বিশেষজ্ঞ দ্বারা সার্ভে এবং প্রতিটি জোনে তিনদিন পর পর লার্ভিসাইড প্রয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রগতির হার শতভাগ সম্ভব হয়েছে বলেও মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে এক্ষেত্রে উত্তরণে পরিকল্পনার বিষয়ে এয়ারসাইডে মশার প্রজনন ক্ষেত্র শনাক্ত ও বিনষ্টকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার কাজ অব্যাহত রাখতে হবে বলেও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। বহর সম্প্রসারণে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় শতভাগ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, নেটওয়ার্ক ও বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গত ৩০ এপ্রিল-২০২৬, বোয়িং কোম্পানি থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। এয়ারবাস কোম্পানি থেকে ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বোয়িং কোম্পানির নির্মিত ৪টি উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার লক্ষ্যে ৯ জুলাই এবং ১৫ জুলাই পৃথক নোটিশে টেন্ডারের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজের সি-চেক বিমানের নিজস্ব প্রকৌশলীদের দ্বারা গত ২ আগস্ট প্রথমবারের মতো ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজের সি-চেক সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ২টি সি-চেকের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপর একটি ড্যাশ-৮ বিমানকে গত ২৯ জুন ক্রুটিমুক্ত করে সচল করা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও তদারকির মাধ্যমে বোয়িং-৭৭৭ বিমানকে চীনের সাংহাই থেকে ৪৫ দিনের পরিবর্তে ২৮ দিনে হেভি মেইনটেনেন্স চেক করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি গ্রাউন্ড ড্যামেজ হ্রাস করার কারণে আইয়াটা থেকে স্বীকৃতি প্রাপ্তির অগ্রগতি শতভাগ অর্জিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিমানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে একজন কেবিন ক্রু, তিনজন এমটি অপারেটরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং দু’জন কেবিন ক্রুসহ ৩৬ জন জিএসই অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

লস্ট লাগেজের কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে ১৭০ দিনে ৯৩ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, এ সময়ে ৭৬৮টি লস্ট লাগেজের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭১৫টি নিষ্পত্তি করা হয় এবং ২১ লাখ ছয় হাজার ৩৭৬ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। আর ৫৩টি লাগেজের বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী ভাইবোনদের সব ফ্লাইট লাগেজ লোডিং-আনলোডিংয়ের সময় হোল্ড এ কাজ করা নিরাপত্তাসহ প্রতিটি কর্র্মী ১২৯টি বডি ক্যামেরা ব্যবহার করছে যার ফুটেজ ৩০ দিন সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং এরও বাস্তবায়ন অগ্রগতি শতভাগ, উল্লেখ করে বলা হয়, বিমান ও অন্যান্য এয়ারলাইন্সের শতভাগ ফ্লাইটে বিমান সিকিউরিটি এবং এপিবিএন কর্তৃক বডি সার্চ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ১৮০ দিনের তৈরি করা অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক ও যাত্রী হাবে উন্নতি করা হবে। তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল চালু করা হবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৫০ ভাগ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া রিয়াদ এয়ারকে বাংলাদেশে ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সকে অস্ট্রেলিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনার জন্য মনোনয়ন প্রদান করার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খাবার সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়েছে, বিমানের খাবারের আটটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছয়টি তদন্ত ও দু’টি ব্যাখ্যা তলব করে মোট আটজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।