সোনারগাঁওয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা : ফেনীতে স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় স্বামী খুন

চার জেলায় ৪ লাশ উদ্ধার

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চার জেলায় এক কিশোরী ও এক গৃহবধূসহ চার জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোনারগাঁওয়ে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফেনীতে স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে খুন করেছে বখাটেরা। এ ছাড়া নড়িয়া ও বাজিতপুরে ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রাজবাড়ীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের বিলনৌছি গ্রামে আরজিনা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আরজিনা খাতুন বিলনৌছি গ্রামের সুলতান আলী বিশ্বাসের মেয়ে এবং আমিন শেখের স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী আমিন শেখ, তাদের সাত মাস বয়সী ছেলে আরিয়ান এবং আরজিনা খাতুন ঘুমিয়ে পড়েন।

মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে আমিন শেখের ঘুম ভাঙলে তিনি দেখতে পান, ঘরের কাঠের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছেন তার স্ত্রী। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আরজিনাকে নিচে নামালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছুদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কেরানীগঞ্জে কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের গ্রীন সিটি সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকা থেকে তানজিলা (১৭) নামে এক কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত তানজিলা বাঘৈর রাজেন্দ্রপুর এলাকার মৃত হাবিবের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারের সময় তানজিলার পরনে ছিল কালো রঙের জামা ও নীল জিন্স প্যান্ট। পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও এর প্রকৃত কারণ এবং কারা জড়িত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সেনবাগে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সেনবাগে নিখোঁজ সংবাদ প্রকাশের চার দিন পর আবুল কাশেম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার লাশ সেনবাগ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিন্নাগুনি গ্রামের ফজল মুন্সিবাড়ির পশ্চিম পাশে ও সেনবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পূর্ব পাশে একটি ময়লার ডোবায় লাশটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তারা সেনবাগ থানা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহত আবুল কাশেম সেনবাগ উপজেলার ৪ নং কাদরা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড চাঁদপুর গ্রামের রমিজ উদ্দিন হাজী বাড়ির মৃত তনু মিয়া প্রকাশ নুরু মিয়ার ছোট ছেলে।

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত আবুল কাসেম অসুস্থ অবস্থায় সেনবাগ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা সেনবাগের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। গত ২৪ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তার নিখোঁজ সংবাদটি প্রকাশ করা হয়। এরপরও কোনো খোঁজ না পেয়ে রোববার ও সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেনবাগ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার এবং এলাকায় মাইকিং করে নিখোঁজের সংবাদটি প্রচার করা হয়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

গোপালগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি থেকে পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রাম থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল নামে পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে শ্বশুরবাড়িসংলগ্ন একটি পুকুরপাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে মাহমুদুলকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত মাহমুদুল ইসলাম খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এপিবিএন-এ কর্মরত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের মৃত হায়দার ভূঁইয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরকারি কাজে গোপালগঞ্জে আসেন মাহমুদুল। কাজ শেষে তিনি নিজের গ্রামে না গিয়ে পাইককান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে শ্বশুর ঝুনু শেখের বাড়িতে ওঠেন।

সোমবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন মাদরাসা শিক্ষার্থী বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে মাহমুদুল ইসলামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাশ উদ্ধার করে রাস্তার পাশে একটি ভ্যানের ওপর রাখেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের স্বজনদের দাবি, ১১ বছর আগে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর মানসিক চাপ ও পারিবারিক জটিলতার কারণে মাহমুদুল ছুটিতে এসে নিজ বাড়িতে না গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে বাধ্য হতেন। নিহতের ভাই আশিকুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাবি কখনো ভাইকে আমাদের বাড়ি যেতে দিতেন না। তিনি পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। আমার ধারণা, পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় আমার ভাইকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

ফেনীতে স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় স্বামী খুন

ফেনী অফিস জানায়, ফেনী শহরের মহিপালে স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নূর নবী হোসেন (৩০) নামে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে এ ঘটনা ঘটে। নূর নবী হোসেনের বাড়ি ভোলা। তিনি দিনমজুর ও মহিপালে ফ্লাইওভারের ভাসমান বাসিন্দা। এ ঘটনায় হত্যাকারী মো: শাহ পরান প্রকাশ ফয়সালকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, ভোলার বাসিন্দা নূর নবী হোসেন নদী ভাঙনপরবর্তী ফেনীতে ভাসমান অবস্থায় বসবাস শুরু করেন। পরে দাগনভূঁঞার বিবি ফাতেমাকে পরিচয় করেন। তারা প্রায় সময় রাস্তাঘাটে বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করতেন। দিন শেষ হলে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে রাত্রিযাপন করেন। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নূর ফাতেমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে উত্ত্যক্ত করে ফয়সাল। একপর্যায়ে ঘুম ভেঙে গেলে প্রতিবাদ করায় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে নবী আসামি ফয়সালের নাকে ঘুসি মারলে ফয়সালও তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে ফয়সাল ধারালো চাকু দিয় নুর নবী হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দিকে এ ঘটনায় স্ত্রী বিবি ফাতেমা ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামি মো: শাহ পরান প্রকাশ ফয়সালকে (৪০) গ্রেফতার করে। ফয়সালের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

সোনারগাঁওয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক যুবককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। নিহতের নাম রাজু আহমেদ (৩৮)। গত রোববার রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা বালুরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরো ৩ জন আহত হয়। নিহত রাজু আহমেদ ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজু পাশাপাশি গরুর খামার পরিচালনা করতেন। তার পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে, বাবা-মা এবং ভাইবোন রয়েছেন। নিহতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি রাজনৈতিক নাকি পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজু এক সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় চার মাস আগে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ দিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, চরহোগলা এলাকার মোতালেব প্রধানের ছেলে বিএনপির নেতা শাহাদাত প্রধান ওই এলাকার যুবদল নেতা শান্ত হত্যা মামলার ২ নং আসামি। সে ডিবি হারুনের সোর্স হিসেবে পরিচিত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলাসহ ১০-১২টি মামলার চিহ্নিত আসামি শাহাদাত প্রধান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সোমবার চরহোগলা এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় নষ্ট শটগান ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ গুলি উদ্ধার করে। অপর দিকে রাজু হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার দুপুরে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহাদাতের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। তারা তার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান।

নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামে স্বামীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভোরে ভোজেশ্বরের আচুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন আচুরা গ্রামের মৃত আলমগীর বেপারীর ছেলে মো: রাব্বি (২৮), পালং উপজেলার আটিপাড়া এলাকার আব্দুল হাই খন্দকারের ছেলে হযরত আলী খন্দকার (৪২) এবং আচুরা গ্রামের মালেক খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৬)।

নড়িয়া থানা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে হযরত আলী খন্দকার নামে এক একজন মোবাইলে ফোন করে ভুক্তভোগীর স্বামীকে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে নিয়ে যায়। তিনি সেখানে পৌঁছালে রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার, ইমন খন্দকারসহ আরো তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বেঁধে ফেলেন। পরে স্বামীকে দিয়ে সুকৌশলে তার স্ত্রীকে ফোন করে টাকা নিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাহার মিয়া বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়।

নিকলীতে ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত এক মুদি দোকানিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মঙ্গলবার ছাতিরচর ইউনিয়নে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন। তারা ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এবং হাওরাঞ্চলের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোরাদ (৩৫) নামের এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী শিশুটির নানী নিকলী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির মা-বাবা জীবিকার তাগিদে ঢাকার কাওরান বাজার এলাকায় কাজ করেন। লেখাপড়ার সুবিধার্থে শিশুটিকে নানীর কাছে রেখে গিয়েছিলেন তারা। ঘটনার খবর পেয়ে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিশুটি চকলেট কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে গেলে অভিযুক্ত দোকানি তাকে দোকানের ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের নিয়ে অভিযুক্তের দোকানে গেলে তিনি পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে ছাতিরচর দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কিশোরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ দিকে ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ছাতিরচর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে ভাসমান পপি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।