বিআইডিএসের পিইসি তথ্য

অর্থনৈতিক শুমারিতে বাদ পড়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ইউনিট

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের করা অর্থনৈতিক শুমারিতে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭২টি অর্থনৈতিক ইউনিট গণনা থেকে বাদ পড়েছিল। তাতে সিটি করপোরেশন এলাকার অপ্রাতিষ্ঠানিক ও সেবা খাতের ইউনিটে বাদ পড়ার হার ছিল সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ অস্থায়ী অর্থনৈতিক ইউনিট গণনায় বাদ পড়েছিল। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) পরিচালিত পোস্ট এনুমারেশন চেক (পিইসি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। প্রতি শুমারির পর এ ধরনের পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস ভবনে আয়োজিত সেমিনারে গতকাল প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হকের সভাপতিত্বে। অনুষ্ঠানে পিইসি প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব শাকিল আকতার এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শুমারিতে দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রাথমিক হিসাব ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টি। পিইসির মূল্যায়নে প্রকৃত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৪২ হাজার ৮৩৬টি। যা প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩৫২টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে শুমারির তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ ইউনিট বাদ পড়েছিল বলে উঠে আসে। যদিও এমন শুমারিতে ৫ শতাংশের কম গণনার ভুলকে গ্রহণযোগ্য মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহর এলাকায় বাদ পড়েছিল ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিট। সিটি করপোরেশন এলাকায় ছিল সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আর গ্রামে বাদ পড়েছিল মাত্র ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিট।

সিটি করপোরেশন এলাকায় বেশি বাদ পড়ার কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অস্থায়ী প্রতিষ্ঠানের স্থানান্তরের হার অনেক বেশি। স্থায়ী কাঠামো বদলাতে সময় ও খরচ লাগে, কিন্তু অস্থায়ী কাঠামো মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে বেশি পরিবর্তন দেখা যায়। শুধু বাদ পড়াই নয়, পিইসি শুমারি ও পিইসির উত্তরের মধ্যে তথ্য-অসঙ্গতিও সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের ধরনে প্রায় ১৪ শতাংশ, কার্যক্রমের ধরনে ৮ শতাংশ, মালিকানা তথ্যের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ আর অগ্নিনিরাপত্তা তথ্যের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভিন্নতা আছে।

পরিকল্পনা সচিব শাকিল আকতার বলেন, শুমারির সঠিকতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারীর দক্ষতা, তাদের প্রশিক্ষণ, প্রবেশাধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের ওপর। তিন থেকে পাঁচ দিনের স্বল্প প্রশিক্ষণে বৃহৎ ও জটিল ম্যানুয়াল শেখা কঠিন। অথচ এরা শুমারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, অনেক সময় গার্মেন্ট কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কিংবা সংবেদনশীল জায়গায় গণনাকারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় তথ্য সংগ্রহ বিঘিœত হয়। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মী, ব্যবস্থাপনা, কিংবা মালিকপক্ষ তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে।