ইউজিসির জটিল নিয়ম দেশের মেধাবীদের দূরে ঠেলছে : জাভেদ হোসেন

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) জিপিএ-নির্ভর ও যান্ত্রিক শর্তের কারণে দেশে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ পাচ্ছেন না বহু উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্য বাংলাদেশী। মেধা পাচার বন্ধ করা এবং বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা নেয়া মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনার যে প্রচেষ্টা, তার সাথে ইউজিসির বর্তমান নিয়োগ নীতি সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে মেধা পাচার কমার বদলে দেশ উল্টো আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের হারাচ্ছে বলে মনে করেন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাভেদ হোসেন।

জাভেদ হোসেন উল্লেখ করেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে আবেদনের জন্য শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে- মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নির্দিষ্ট জিপিএ বা সিজিপিএ থাকা বাধ্যতামূলক। প্রশাসনিকভাবে এই নিয়ম সহজ হলেও উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক বাস্তবতায় এটি অসংগত। বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নম্বর দেয়ার সংস্কৃতি, পাঠ্যক্রম এবং পরীক্ষার মানের মধ্যে বড় তফাত থাকলেও অক্সফোর্ড বা হার্ভার্ডের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কঠোর মূল্যায়নে পাওয়া ফলাফলকেও দেশের প্রচলিত জিপিএ কাঠামোর সমান দাঁড়িপাল্লায় মাপা হচ্ছে।

এই কাঠামোগত নিয়মের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন ও-লেভেল ও এ-লেভেল শেষ করা শিক্ষার্থী এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশী গবেষকরা। তিনি জানান, কোনো শিক্ষার্থী যদি কৈশোরে ও-লেভেলে কাঙ্ক্ষিত ফল না-ও পান, পরবর্তীতে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি ও পিএইচডি অর্জন করেন, তবুও তিনি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারছেন না। অর্থাৎ কৈশোরের একটি ফলাফলের কারণে তার সারা জীবনের একাডেমিক সাফল্য অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

একইভাবে বিজ্ঞান ও গবেষণা নির্ভর কঠিন বিষয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব বিষয়ে গড় নম্বর তুলনামূলক কম থাকলেও সেগুলোকে মানবিক বা ব্যবসায় শাখার উদার নম্বর ব্যবস্থার সাথে এক করে দেখা হচ্ছে। ফলে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে কঠোর পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে অর্জিত ডিগ্রির চেয়ে কম মানের প্রতিষ্ঠানের উচ্চ জিপিএধারীরা প্রাতিষ্ঠানিক বিচারে এগিয়ে যাচ্ছেন।

জাভেদ হোসেনের মতে, উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের মেধার গতিপথ, গবেষণা, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও অভিজ্ঞতার ওপর জোর দেয়া হয়; সেখানে ইউজিসি কেবল জিপিএর সংখ্যাকে ছাঁকনি বানিয়েছে। এতে দেশ শুধু যোগ্য শিক্ষকই হারাচ্ছে না, বঞ্চিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক থেকেও।

তিনি দাবি জানান, উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখতে জিপিএ-নির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ইউজিসির কাজ হওয়া উচিত কেবল ন্যূনতম মানদণ্ড ঠিক করা এবং প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের ওপর ছেড়ে দেয়া। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও প্রার্থীর সার্বিক যোগ্যতাকে মূল্যায়ন না করলে মেধা পাচার ঠেকানোর পদক্ষেপ কখনোই কার্যকর হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।