কুলিয়ারচরে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস বাগান, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট

Printed Edition
ফসলি জমির পাশে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস বাগান :  নয়া দিগন্ত
ফসলি জমির পাশে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস বাগান : নয়া দিগন্ত

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ফসলি জমির পাশে সরকার নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের বাগান করে পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এসব আগ্রাসী প্রজাতির গাছ আশপাশের জমির উর্বরতা নষ্ট করে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরকার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে। ২০২৫ সালের ১৫ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এসব গাছকে ক্ষতিকর উল্লেখ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইউক্যালিপটাস অতিরিক্ত পানি শোষণ করে মাটিকে শুষ্ক ও অনুর্বর করে, এর পাতা ও বাকল থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ অন্য গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে এবং মাটির জলস্তর নিচে নামিয়ে দেয়, যা কৃষি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

অভিযোগ অনুযায়ী, কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর মাজারের পূর্ব পাশে গজারিয়া বিল এলাকায় একই গ্রামের ফাইজ উদ্দিন তার জমিতে ইউক্যালিপটাস গাছের বাগান করেছেন। পার্শ্ববর্তী জমির মালিক ইয়াছিন আরাফাত বলেন, বোরো মৌসুমে এই বিলে ব্যাপক ধান চাষ হয়। নিষিদ্ধ গাছের কারণে তাদের ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি গাছ অপসারণের দাবিতে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পর ইউএনও ইয়াসিন খন্দকার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোবারক হোসেনকে দায়িত্ব দেন। প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করা হয়েছে।

কুলিয়ারচর থানার ওসি মো: নুরুন্নবী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তের দায়িত্ব এএসআই রমজানকে দেয়া হয়েছে। রমজান জানান, তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে গাছ কাটার আশ্বাস দিলেও এখনো তা অপসারণ করেননি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফাইজ উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত নিষিদ্ধ গাছ অপসারণ ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।