গাজীপুর প্রতিনিধি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আকস্মিকভাবে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি চারজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, ছুটির অনুমোদনে অসংগতি এবং হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘাটতি দেখতে পান। গতকাল সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করেই হাসপাতালে আসেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি হাসপাতালে ঢুকেই কর্তব্যরতদের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিস কোথায় জানতে চান। পরে ওই কক্ষে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: রেজওয়ানা রশিদকে অনুপস্থিত দেখতে পান। এ বিষয়ে উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে কেউ স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ পরিচয়ে মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক বলে ওই কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন। মন্ত্রী ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে স্ক্যান করা একটি কপি দেখানো হয়। সেই ছুটির আবেদনপত্রে গাজীপুর সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। পরে মন্ত্রী চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা নিয়ে কনফারেন্স রুমে বসেন এবং উপস্থিতি যাচাই করেন। সেখানে চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়, যাদের কারও ছুটির আবেদনও পাওয়া যায়নি। মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের খবর পেয়ে কয়েকজন চিকিৎসক সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে উপস্থিত হন। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন। পরে তাদের কয়েকজন মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
একপর্যায়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজওয়ানা রশিদও হাসপাতালে উপস্থিত হয় এবং মন্ত্রীর কাছে বিশেষভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পরে মন্ত্রী বকুল উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগাম জানিয়ে পরিদর্শন করা হবে না। হঠাৎ করেই ঝটিকা সফর করা হবে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সাথে সাথে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা হাসপাতালে চাকরি করবেন তাদের কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। ঢাকায় বসবাস করে মফস্বলের হাসপাতালে চাকরি করার সুযোগ আর থাকবে না। প্রয়োজনে কর্মস্থলের কাছাকাছি থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নরসিংদীতে ১৬ ডাক্তারের মধ্যে অনুপস্থিত ৮ জন
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তারদের সময়মত কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যকর্মী গতকাল নরসিংদীর পলাশ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে কর্তব্যরত ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে পাঁচজনকে ছুটি এবং আটজনের অনুপস্থিতি দেখতে পান। এর মধ্যে দু’জন ডাক্তার নির্ধারিত সময়ের পরে আসেন। পরে তিনি হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন ও রোগীদের সাথে কথা বলেন।
পরে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খবর পেয়েছি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময়মত ডাক্তাররা আসেন না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল পরিদর্শন করে তার সত্যতা পেয়েছি। আমরা কর্তব্যরত ১৬ জন ডাক্তারের মধ্যে আটজনের উপস্থিতি পেয়েছি। যারা উপস্থিত হয়নি তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা নগদ টাকা দিয়ে রেবিক্স টিকা কিনছি। প্রতি উপজেলায় টিকা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। দেশে রেবিক্স টিকার আর সমস্যা হবে না।
এ সময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ, পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


