ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে অসাধারণ মানসিক শক্তি ও লড়াকু ফুটবলের পরিচয় দিলো আলজেরিয়া। এক গোলে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আমিনে গুইরির গোলে ২-১ ব্যবধানে জর্দানকে হারিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটি। এই জয়ের ফলে আলজেরিয়ার নকআউটে ওঠার আশা জিইয়ে থাকল, অন্য দিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয়া জর্দানের অভিযান শেষ হয়ে গেল গ্রুপ পর্বেই।
গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচটি ছিল দুই দলের জন্যই প্রায় বাঁচা-মরার লড়াই। প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে চাপে ছিল আলজেরিয়া। অন্য দিকে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে হারা জর্ডানের জন্যও এটি ছিল শেষ সুযোগ। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল বাড়তি উত্তেজনা ও স্নায়ুচাপ।
কোচ ভøাদামির পেটকোভিচ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আগের ম্যাচে বেঞ্চে থাকা অভিজ্ঞ তারকা রিয়াদ মাহারেজকে মূল একাদশে ফেরান। সেই সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই প্রভাব ফেলতে থাকে। আলজেরিয়া বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ সাজাতে থাকে এবং মাহরেজ একাধিকবার প্রতিপক্ষ রক্ষণকে সমস্যায় ফেলেন।
ম্যাচের শুরুর দিকে মাঝমাঠ থেকে আসা হিচাম বউদাউয়ের অসাধারণ পাস ধরে এগিয়ে গিয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মাহারেজ। পরে আবার একা গোলরক্ষকের সামনে চলে গেলেও জর্দানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লাইলা চমৎকার দক্ষতায় বিপদ সামাল দেন।
আলজেরিয়া সুযোগ নষ্ট করার মূল্য দেয় প্রথমার্ধেই। ৩৬ মিনিটে নিজেদের রক্ষণভাগে বল হারিয়ে বিপদ ডেকে আনে তারা। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে জর্দান। মুছা আল তামারির প্রচেষ্টা ডিফ্লেক্ট হয়ে গিয়ে পৌঁছে যায় নিজার আল রাশদানের কাছে। সুযোগ হাতছাড়া না করে নিচু শটে গোল করে জর্দানকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর আলজেরিয়া কিছুটা অস্থির হয়ে পড়লেও বিরতির সময় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন পেটকোভিচ। মাঠে নামানো হয় নাবিল বেনতালেব এবং নাদিও বেনবোয়ালিকে। এরপর পুরো ম্যাচের চেহারাই বদলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় আলজেরিয়া। ৬৯ মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরে। মাহারেজের কর্নার থেকে ডিফেন্ডারদের মাঝখান দিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেড করেন বেনবুয়ালি। বল জালে জড়াতেই আলজেরিয়ার সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রাণ ফিরে আসে।
সমতায় ফেরার পরও থামেনি আলজেরিয়া। তারা আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৮২ মিনিটে আরেকটি সেটপিস থেকে আসে কাক্সিক্ষত গোল। বদলি খেলোয়াড় আনিস হাদির কর্নারে গোলমুখে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলায় সবচেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান আমিনে গুইরি কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে নিশ্চিত করেন মূল্যবান জয়।
এই ফলের ফলে আলজেরিয়া তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে অস্ট্রিয়ার সমতায় উঠেছে। অন্য দিকে আর্জেন্টিনা নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে।
এখন সব চোখ আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের আলোচিত গিজনের কলঙ্কের স্মৃতি এখনো আলজেরিয়ান ফুটবলে জীবন্ত। চার দশকেরও বেশি সময় পর সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ পাচ্ছে তারা। জয় পেলে শুধু নকআউট নয়, ইতিহাসের প্রতীকী প্রতিশোধও পূরণ হতে পারে আলজেরিয়ার।



