ভেনিজুয়েলা থেকে আরো তেল তুলবে শেভরন

Printed Edition

পিবিএস নিউজ

ভেনিজুয়েলায় নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে কারাকাসের তেলসম্পদের উন্নয়ন এবং সেই মুনাফায় পেন্টাগনকে অংশীদার করার উচ্চাভিলাষী চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

শেভরনই একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি, যাদের ভেনিজুয়েলায় বড় ধরনের উপস্থিতি রয়েছে। দেশটির অরিনোকো বেল্টে তাদের আরো জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওই এলাকায় বর্তমানে কোম্পানির কার্যক্রম রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে শেভরন। এ বিনিয়োগের লক্ষ্য হলো বর্তমান উৎপাদন দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা। শেভরনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক ওয়ার্থ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভেনিজুয়েলায় শেভরনের ইতিহাস এক শতাব্দীর বেশি সময়ের। সেখানে আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত দেশটির সম্ভাবনার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন।’

খনিজ তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের ২০২৫ সালের বার্ষিক বুলেটিন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুদ রয়েছে ভেনিজুয়েলায়, যার পরিমাণ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরবের মজুদ ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে ভেনিজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামোর মারাত্মক অবনতি হওয়ায় এবং দেশটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় তাদের দৈনিক উৎপাদন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেলের কিছু বেশি। অন্য দিকে সৌদি আরব প্রতিদিন এক কোটি থেকে এক কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল কোম্পানি শেভরন ১৯২৩ সাল থেকে ভেনিজুয়েলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বুধবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ‘ভেনিজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মিশন খুব সুনির্দিষ্ট। মিশনটি হলো ভেনিজুয়েলার জনগণের জন্য শান্তি, স্বাধীনতা, সুযোগ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসা।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আজ যে চুক্তিগুলো সই হয়েছে, সেগুলোতে কয়েক হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং আখেরে হাজার হাজার কর্মসংস্থান হবে। আর তা ভেনিজুয়েলার সবার জন্য শান্তি, সুযোগ ও সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ভেনিজুয়েলার তেলশিল্পে ট্রাম্পের প্রবেশ চেষ্টার অংশ হিসেবে সেখানকার তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের সাথে যৌথ উদ্যোগে যাওয়ার কথা সোমবার জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। তবে এ চুক্তির লক্ষ্য কতটা অর্জিত হবে, তা নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর অবহেলার কারণে বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা ভেনিজুয়েলার তেলশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল মজুদ তেলের ১৭টি ক্ষেত্রকে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে ১০০ বছরের জন্য তুলে দেয়ার এখতিয়ার আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে ভেনিজুয়েলার বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকার এই চুক্তি বাতিল করবে কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক গবেষণাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান ভাসকেজ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ সপ্তাহে যে ধরনের চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে তা ভেনিজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এমন অনুমোদন নেয়া হয়নি। ভাসকেজ লিখেছেন, ‘চুক্তিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ এটি এমন একটি স্বৈরশাসকের সাথে করা হয়েছে, যে কয়েক দশক ধরে সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে আছে এবং ২০২৪ সালে লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় নির্বাচনী জালিয়াতি করেছেন।’ তিনি এও লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তরফে সামরিক ও অন্যান্য ধরনের ব্যাপক চাপের মধ্যে এই চুক্তি করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ভেনিজুয়েলার যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকার এ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।