ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রতিযোগিতার প্রথমদিনে ২টি নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। ডিসকাস থ্রো (কিশোর) ৩৯.৫৮ মিটার দূরত্বে নিক্ষেপ করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন বিকেএসপির সায়েদ মুশফিক হোসোইন। পূর্বের রেকর্ডটি ছিল ২০১৯ সালে পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মো: মাসুম আহমেদের ৩৮.২২ মিটার। কিশোরী বিভাগে ১৫০০ মিটার দৌড়ে নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার খাদিজা খানম ৫:১২.৭০ সেকেন্ডে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন। ২০২৪ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্মৃতি আক্তার সময় নেন ৫:১৫.০৩ সেকেন্ড।
জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে বালকদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বিকেএসপির জাহিদুল ইসলাম ১১.০৩ সেকেন্ডে এবং বালিকা বিভাগে একই সংস্থার রাফিয়া খাতুন ১৩.০৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জিতেন। কিশোর বিভাগে ১১.০৩ সেকেন্ডে বিকেএসপির রিফাত শেখ ও কিশোরী বিভাগে আনসারের সাবিনা আক্তার রুবি ১২.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জিতেন।
কাগজে-কলমে এটি স্বর্ণজয়ী পারফরম্যান্স হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ বর্তমানের এসব টাইমিং দেশের জুনিয়র পর্যায়ের পুরনো রেকর্ডের ধারে কাছেও নেই। ২০১৬ সালে বালক বিভাগে বিকেএসপির হাসান মিয়া ১০.৬০ সেকেন্ডে জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন। বালিকা বিভাগে ২০১৯ সালে সুমাইয়া দেওয়ান ১২.২২ সেকেন্ডে নতুন রেকর্ড করেছিলেন। কিশোর বিভাগে ২০১৫ সালে সাইফুল ইসলাম খান ১০.৫৩ সেকেন্ডে এবং কিশোরী বিভাগে আজমি খাতুন ১২.৪০ সেকেন্ডে রেকর্ড গড়েছিলেন।
প্রায় এক দশক পর এসে বালক ও কিশোর বিভাগে স্বর্ণজয়ীদের সময় আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় অর্ধ সেকেন্ড ধীর। স্প্রিন্টে যেখানে এক সেকেন্ডের শতভাগের এক ভাগও বড় ব্যবধান তৈরি করে, সেখানে এমন পার্থক্য বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসের জন্য উদ্বেগের বার্তা। বালিকা বিভাগেও রেকর্ডের তুলনায় প্রায় এক সেকেন্ড পিছিয়ে বর্তমানের স্বর্ণজয়ী। কেবল কিশোরী বিভাগে পুরনো রেকর্ডের সমান সময় হয়েছে, নতুন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরি করা ফেডারেশনের স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। দেশের অ্যাথলেটিকসে নতুন প্রতিভা তৈরি হওয়ার গতি কমে গেছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের কোচিং, বৈজ্ঞানিক ফিটনেস ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার অভাব পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। প্রতিভা থাকলেও তাদের যথাযথ পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট।
এক সময় বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে জাতীয় জুনিয়র প্রতিযোগিতা ছিল ভবিষ্যতের তারকা তৈরির সবচেয়ে বড় মঞ্চ। এই প্রতিযোগিতা থেকেই উঠে আসতেন দেশের দ্রুততম দৌড়বিদরা, যারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে জাতীয় রেকর্ডের দুয়ারে কড়া নাড়তেন। সময়ের সাথে সেই ধারাবাহিকতা অস্পষ্ট।



